ব্রিটিশ মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেডি ভিক্টোরিয়া হার্ভে, যিনি একসময় প্রিন্স অ্যান্ড্রু উইন্ডসরের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন, জেফরি এপস্টেইন এখনও জীবিত এবং নিরাপদে আছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি এই বক্তব্যটি টেলিভিশন আলোচনায় প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি এপস্টেইনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
হার্ভে বলেন, এপস্টেইনকে কারাগার থেকে একটি গোপন গাড়ি, যা তিনি “ট্রিপ ভ্যান” বলে উল্লেখ করেন, দিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি ইসরায়েলে গিয়ে নিরাপদে বাস করছেন। তিনি এপস্টেইনের আত্মহত্যা সম্পর্কে কোনো বিশ্বাস প্রকাশ করেননি এবং তার পালানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, তিনি সেল থেকে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন। তবে মৃত্যুর পরপরই তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা কিছু রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুর পর থেকে এপস্টেইনের ওপর বিভিন্ন তত্ত্ব ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু সূত্র দাবি করে যে, তার মৃত্যুর সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করেনি, আর অন্যরা বলেন যে, তার মৃত্যুর পেছনে কোনো গোপন পরিকল্পনা থাকতে পারে।
মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সম্প্রতি জানিয়েছে যে, জেফরি এপস্টেইন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রশিক্ষিত এজেন্ট ছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে কিছু বিশ্লেষক এপস্টেইনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন পাচার সংক্রান্ত তদন্তের বিশাল পরিমাণের নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলিতে বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বিভিন্ন দেশে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে কিছুতে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন, ভ্রমণ রেকর্ড এবং যোগাযোগের বিবরণ রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের পরিধি বাড়ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এপস্টেইনের মৃত্যুর পর থেকে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে বেশ কয়েকটি মামলায় তার সহকর্মী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে যৌন শোষণ, মানব পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে, লেডি ভিক্টোরিয়া হার্ভের দাবিগুলোকে কোনো সরকারি তদন্তের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তবে তার বক্তব্য মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এপস্টেইনের মৃত্যুর সত্যতা নিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করেছে।
এপস্টেইনের মৃত্যুর পর থেকে তার সম্পত্তি ও আর্থিক সম্পদের বণ্টন নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আদালত তার সম্পদের কিছু অংশ দাতব্য সংস্থায় দান করার নির্দেশ দিয়েছে, তবে কিছু সম্পদ এখনও বিতর্কের বিষয়।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে এবং জনসাধারণের কাছে সীমিত তথ্যই প্রকাশিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এপস্টেইনের মৃত্যুর পর বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ ও আলোচনা চালু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার শিকারদের অধিকার রক্ষার জন্য চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের স্বচ্ছতা দাবি করছে।
সারসংক্ষেপে, লেডি ভিক্টোরিয়া হার্ভের এপস্টেইনের বেঁচে থাকার দাবি মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবে সরকারি সূত্র ও আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর থেকে প্রকাশিত নথি ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যগুলো এখনও বিভিন্ন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।



