জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন নির্দেশিকা আপলোড করা হয়, যেখানে ৪, ৩ ও ২ ক্রেডিট কোর্সের জন্য আলাদা সময়সীমা, নম্বর বণ্টন এবং প্রশ্নপত্রের গঠন নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন নীতিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত পরীক্ষার সমন্বয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মোট ২০ নম্বরকে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে: অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন বা কুইজে ৫ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতির জন্য ৫ নম্বর এবং দুটি ইন-কোর্স পরীক্ষার গড়ে ১০ নম্বর। এই অংশগুলো শিক্ষার্থীর নিয়মিত পারফরম্যান্সের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য হবে।
৪ ক্রেডিটের কোর্সে মোট নম্বর ৭৫ নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ২০ এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ৬০ নম্বর রাখা হয়েছে। পরীক্ষার সময়সীমা তিন ঘণ্টা, এবং প্রশ্নপত্রে পাঠ্যসূচির সব অধ্যায় থেকে বিস্তৃত প্রশ্ন থাকবে। মোট নয়টি প্রশ্নের মধ্যে ছয়টি উত্তর দিতে হবে, প্রতিটি প্রশ্নের সর্বোচ্চ দশটি নম্বর, এবং প্রতিটি প্রশ্নকে সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্নে ভাগ করা যাবে।
৩ ক্রেডিটের কোর্সেও মোট নম্বর ৭৫ রাখা হয়েছে, তবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভাগফল কিছুটা ভিন্ন। এখানে ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য ১৫ নম্বর নির্ধারিত, যার মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রেজেন্টেশন/কুইজে ৪ নম্বর, উপস্থিতিতে ৩ নম্বর এবং দুটি ইন-কোর্স পরীক্ষার গড়ে ৮ নম্বর থাকবে। চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ৬০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে, এবং সময়সীমা একইভাবে তিন ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রের গঠনও একই রকম: নয়টি প্রশ্নের মধ্যে ছয়টি উত্তর, প্রতিটি দশ নম্বরের, এবং সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্নে ভাগ করা যাবে।
২ ক্রেডিটের কোর্সের জন্য মোট নম্বর ৫০ নির্ধারিত হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ ১০ নম্বর, যেখানে অ্যাসাইনমেন্ট/প্রেজেন্টেশন বা কুইজে ৩ নম্বর, উপস্থিতিতে ২ নম্বর এবং দুটি ইন-কোর্স পরীক্ষার গড়ে ৫ নম্বর থাকবে। চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমা দুই ঘণ্টা নির্ধারিত। প্রশ্নপত্রে সব অধ্যায় থেকে প্রশ্ন থাকবে, মোট ছয়টি প্রশ্নের মধ্যে চারটি উত্তর দিতে হবে, প্রতিটি প্রশ্নের মান দশ নম্বর, এবং সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্নে ভাগ করা যাবে।
নতুন কাঠামো শিক্ষার্থীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে, যাতে তারা ধারাবাহিক কাজের গুরুত্ব বুঝে পরিকল্পনা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ৪ ক্রেডিটের কোর্সে উপস্থিতি ও ইন-কোর্স পরীক্ষার গড়ে মোট ১৫ নম্বরের বেশি অংশ রয়েছে, যা নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
অন্যদিকে, ৩ ক্রেডিটের কোর্সে অ্যাসাইনমেন্টের ওজন কিছুটা বেশি, যা গবেষণা ও প্রকল্প কাজের প্রতি গুরুত্ব নির্দেশ করে। এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদেরকে তত্ত্বগত জ্ঞান ছাড়াও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করবে।
২ ক্রেডিটের কোর্সে সময়সীমা কম এবং প্রশ্নের সংখ্যা কম, ফলে শিক্ষার্থীরা কম সময়ে মূল বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে পারবে। তবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ এখনও উপস্থিতি ও ইন-কোর্স পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীর সামগ্রিক পারফরম্যান্সের সমন্বয় নিশ্চিত করে।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সব প্রশ্নই পাঠ্যসূচির বিভিন্ন অধ্যায় থেকে নেওয়া হবে, ফলে শিক্ষার্থীদের পুরো কোর্সের বিষয়বস্তু আয়ত্ত করতে হবে। প্রশ্নের গঠনও এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তর দেওয়া যায়, যা বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা বাড়াবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই নথি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রেফারেন্স গাইড হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা এখন থেকে ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রতিটি উপাদানের ওজন জানে, ফলে তারা সময়মতো অ্যাসাইনমেন্ট জমা, ক্লাসে উপস্থিতি এবং ইন-কোর্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: নতুন কাঠামো অনুসারে, ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রতিটি অংশের জন্য পৃথক সময়সূচি তৈরি করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাসাইনমেন্টের শেষ তারিখের আগে একটি খসড়া প্রস্তুত করে রাখুন, ক্লাসে উপস্থিতি রেকর্ড রাখুন এবং ইন-কোর্স পরীক্ষার জন্য নিয়মিত রিভিউ সেশন পরিকল্পনা করুন। এভাবে চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চাপ কমে যাবে।
এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে গৃহীত, এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



