26 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশের ফেব্রুয়ারি নির্বাচন চীন-ভারত সম্পর্কের নতুন মোড় আনবে

বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারি নির্বাচন চীন-ভারত সম্পর্কের নতুন মোড় আনবে

বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা তৈরি করছে। এই ভোটের ফলাফল চীন ও ভারতের সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির দিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, বিশ্লেষকরা জানান।

আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনপদ্ধতি উল্টে যাওয়ার পর, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। নতুন সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনঃনির্ধারণে তৎপর।

ভারত, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রত্যর্পণ দাবি পেয়েছে, তবুও তাকে আশ্রয় প্রদান করে। এই পদক্ষেপ ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের সরকারকে রাগান্বিত করে এবং চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংযোগকে তীব্র করে তুলেছে।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের সরকার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পূর্বে গড়ে তোলা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার দিকে ঝুঁকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন ফোরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো জোশুয়া কার্লানটিকের মতে, “বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার এবং ভবিষ্যৎ সরকার সত্যিই চীনের দিকে ঝুঁকছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ এখন চীনের কৌশলগত দৃষ্টিতে বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রে অবস্থান করছে, এবং চীন বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আশা করে যে বাংলাদেশ এই কৌশলে প্রো-চীন ভূমিকা পালন করবে।” এই মন্তব্য দেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে চীনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের প্রথম রাষ্ট্র সফর চীনেই অনুষ্ঠিত হয়, যা কূটনৈতিক দিক থেকে একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। জানুয়ারি মাসে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার অধীনে ভারতের সীমান্তের নিকটবর্তী উত্তরের একটি বিমানবেসে ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেলওয়ার হুসেইনের মতে, “যে কোনো ফলাফলই হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আরও গভীরতা অবশ্যম্ভাবী সম্ভাবনা হিসেবে দেখা যায়।” তিনি এই সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকে উল্লেখ করেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। ডিসেম্বর মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “অবিরাম সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈরিতা” নামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যা বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা ঘটার দিকে ইঙ্গিত করে। ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়।

ঢাকা সরকার ভারতের এই অভিযোগকে অতিরঞ্জিত বলে অভিযুক্ত করেছে, তবে দু’দেশের মধ্যে মাঝে মাঝে সমঝোতার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুভ্রমনিয়াম জয়শঙ্কর বাংলাদেশে শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সফর করেন।

নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে ফলাফল চীন-ভারত পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। চীনের কৌশলগত স্বার্থে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হলে, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠন অনিবার্য হয়ে উঠবে। দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক শক্তি গঠনের এই সময়ে ভোটের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments