মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দুই দিনের সরকারি সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৭ জানুয়ারি শনিবার কুয়ালালামপুরে পৌঁছান এবং পুত্রাজায়ায় একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মোদি দেশে পৌঁছানোর পর লাল গালিচায় স্বাগত জানিয়ে মালয়েশিয়ার সরকার তাকে আদরপূর্ণ স্বাগত জানায়, যা এক দশকের বেশি সময়ের পর তার প্রথম মালয়েশিয়া সফরকে চিহ্নিত করে।
এই সফরকে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত-মালয়েশিয়া সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও গভীরতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং দু’দেশের শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
সফরের সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে সৌর ও বায়ু শক্তি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করে, যা উভয় দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করবে।
স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়, টেলিমেডিসিন এবং ওষুধ উৎপাদন সংক্রান্ত প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা রোগীর সেবা মান উন্নত করার লক্ষ্য রাখে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণ, স্মার্ট সিটি এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
মোদি উল্লেখ করেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি আমরা সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেব।”
আনোয়ার ইব্রাহিম পুত্রাজায়ায় একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই বৈঠক ও মতবিনিময় ভারত ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কৌশলগত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরও যোগ করেন, “মোদির সঙ্গে একত্রে আমি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং সংস্কৃতিতে সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য আমার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।”
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই চুক্তিগুলি দুই দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ বাড়িয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে উভয়ের অবস্থানকে মজবুত করবে।
ভবিষ্যতে উভয় সরকার যৌথ গবেষণা প্রকল্প, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সম্পর্ককে বহুমুখী করার পরিকল্পনা করেছে।
মালয়েশিয়া ও ভারতের এই উচ্চস্তরের সাক্ষাৎকারের পরপরই উভয় দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলো পরবর্তী মাসে আরও কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য সমন্বয় সভা করার কথা জানিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, মোদি ও আনোয়ার ইব্রাহিমের এই সফর দু’দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একাধিক ক্ষেত্রের বাস্তবিক সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



