শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজক শহর মিলানে শনিবার বাসস্থান ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রায় একশো জনের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি বিক্ষোভকারীকে লক্ষ্য করে পুলিশ ধোঁয়া বোমা ও বোতল নিক্ষেপ করে। প্রতিক্রিয়ায় শিলারক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ দল জলকামান ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এই সংঘাতে ছয়জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবাদটি শীতকালীন অলিম্পিকের প্রথম পূর্ণদিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনুষ্ঠিত হয়। আনুমানিক দশ হাজার মানুষ মিলানের প্রধান বাণিজ্যিক রাস্তায় সমবেত হয়ে বাড়ি ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে রেলায় দাঁড়ায়। তৃণমূল ইউনিয়ন, বাসস্থান অধিকার গোষ্ঠী এবং সামাজিক কর্মী সমিতি একত্রে ভাড়া বৃদ্ধির ফলে শহরকে “টেকসইহীন” বলে অভিহিত করে দাবি জানায়।
অলিম্পিকের প্রস্তুতির জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে শক্তিশালী করা ছিল। তুরিনে কয়েক দিন আগে বামপন্থী সমাবেশে সহিংসতা ঘটার পর, মিলানে একই রকম প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছিল। তদুপরি, তুরিনে ঘটিত সহিংসতায় শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং প্রায় ত্রিশজন বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়, যা নিরাপত্তা সংস্থাকে সতর্ক করেছে।
মিলানে ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোরের পর থেকে জমি ও বাড়ির দাম দ্রুত বাড়ছে। ধনী নতুন বাসিন্দাদের জন্য কর ছাড় ও ব্রেক্সিটের ফলে অভিবাসন বাড়ার ফলে স্থানীয়দের আর্থিক চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ গোষ্ঠীর উদ্বেগের মূল বিষয়।
প্রতিবাদে ৭১ বছর বয়সী স্টেফানো নুতিনি, কমিউনিস্ট রিফাউন্ডেশন পার্টির সদস্য, অলিম্পিককে “অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত দিক থেকে টেকসই নয়” বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অলিম্পিকের জন্য নির্মিত অবকাঠামো পাহাড়ি এলাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে তিনি শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না বলে উল্লেখ করেন।
পুলিশের মতে, বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগের মুখ ঢাকা ছিল এবং তারা ধোঁয়া বোমা ও বোতল নিক্ষেপের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করেছিল। শিলারক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, জলকামান ব্যবহার করে ভিড়কে ছড়িয়ে দেয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে তারা বাসস্থান নীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে অবৈধ কাজের অভিযোগে আটক হয়েছে।
এই ঘটনার পর, মিলানের স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগ ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রতিবাদে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। অলিম্পিকের প্রস্তুতি ও শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে চলমান বিতর্কে এই ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমন্বয় করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অলিম্পিকের আয়োজক শহর হিসেবে মিলানকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে উপস্থাপন করার পাশাপাশি, বাসস্থান ও পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা জরুরি। এখন পর্যন্ত, বিক্ষোভের মূল দাবি ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিক্রিয়া উভয়ই শহরের ভবিষ্যৎ নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



