বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রোববার লাহোরে পৌঁছেছেন এবং সন্ধ্যায় আইসিসির জরুরি ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেবেন। এই সভা বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত আইসিসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লাহোরে তার সফরের প্রথম কাজ হবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা।
আসন্ন ভার্চুয়াল মিটিংয়ে আইসিসির অন্যান্য সদস্যদেরও উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে। সভা আইসিসির অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল সদস্যকে তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ দেবে। এই মিটিংয়ের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ আইসিসি সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দলকে বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান ভারত বিরোধী ম্যাচে অংশ নিতে না চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বয়কটকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। পাকিস্তান সরকার ১ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছে যে তারা ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না এবং এই পদক্ষেপের পেছনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশকে সমর্থন করার কথা উল্লেখ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে “খেলার মাঠে রাজনীতি” এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
বাংলাদেশ সরকারও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ করে, তবে আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দল বিশ্বকাপের সূচি থেকে বাদ পড়ে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে তার উপস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়।
এই ধারাবাহিকতা টি-২০ বিশ্বকাপের সূচনায় বড় ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। পূর্বে, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও এই সংকটে ভূমিকা রেখেছিল। আইসিসির আর্থিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারত- পাকিস্তান ম্যাচ থেকে বিশ্বকাপের আয়ের একটি বড় অংশ আসে, তাই পাকিস্তানের বয়কটের ফলে আইসিসি আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।
ইউরোপীয় ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে আইসিসির সিদ্ধান্তের ফলে “মোস্তাফিজের গেছে ৯ কোটি, আইসিসির যাচ্ছে ৬ হাজার কোটি” এমন একটি আর্থিক বৈষম্য দেখা দিয়েছে। এই পার্থক্য ক্রীড়া সংস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইসিসি এবং পিসিবি মধ্যে আলোচনার সূচনা সম্পর্কে পূর্বে ESPN ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজ জানিয়েছিল যে পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে পিসিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনার মূল বিষয় ছিল আইসিসির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশের ক্রীড়া নীতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের সমন্বয়।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন যে স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি হলেও ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে টি-২০ বিশ্বকাপের শিডিউল ও আর্থিক মডেল পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
আসন্ন ভার্চুয়াল সভায় আইসিসি কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবে এবং বিশ্বকাপের শিডিউল কীভাবে পুনর্গঠন হবে তা নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সদস্যদের মতামত শোনার সুযোগ থাকবে, যা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ভিত্তি গঠন করবে।
সামগ্রিকভাবে, ক্রীড়া রাজনীতি, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আর্থিক স্বার্থের টানাপোড়েন এই মুহূর্তে টি-২০ বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য একটি জটিল সমন্বয় প্রক্রিয়া তৈরি করেছে।



