বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ নার্সের পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে নার্সদের দল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপাচার্যকে ঘেরাও করে প্রতিবাদে অংশ নেয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক অফিসের সামনে একত্রিত হয়ে তাদের দাবি জানায়। মূল অভিযোগ হল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সন্দেহ।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নার্সরা উপাচার্যের অফিসের চারপাশে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যায়। উপস্থিতির সংখ্যা সুনির্দিষ্ট না হলেও, বেশ কয়েকজন নার্স একত্রে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের মত প্রকাশ করে। তারা জানায় যে, এই পদক্ষেপটি দীর্ঘ সময়ের অসন্তোষের পরিণতি।
নার্সদের দাবি অনুযায়ী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় ৩০০ যোগ্য প্রার্থীর নাম গোপনে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রার্থীরা সব শর্ত পূরণ করলেও নিয়োগের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায়বিচার দাবি করে। বাদ পড়া প্রার্থীদের সংখ্যা ও নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, নার্সরা এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
পটভূমিতে দেখা যায়, গত বছর ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয় ৮০০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, নিয়োগের ৯৩ শতাংশ অংশ মেধা ভিত্তিক হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা হল ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অথবা বিএসসি ইন নার্সিং ডিগ্রি। তবে, এই ডিগ্রি বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ করা সত্ত্বেও, কিছু প্রার্থীর নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠে।
নার্সরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত নিয়োগের দাবি করে আসছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকে কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাদের মতে, আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা না থাকায় অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা তাদেরকে বাধ্য করেছে প্রতিবাদে নামতে।
এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তাই, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। উভয় পক্ষের মতামত স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই ধরনের প্রতিবাদ পূর্বে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার দ্বারা করা হয়েছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। নার্সদের এই পদক্ষেপও সেই ধারার একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
পাঠকগণ যদি একই ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জানতে চান, তবে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নোটিশ পর্যবেক্ষণ করা উপকারী হবে। আপনার মতামত কী, এবং স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য আপনি কী ধরনের ব্যবস্থা প্রস্তাব করবেন?



