রংপুরের নূরপুর এলাকায় নয়া অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার অফিসে গত রাত্রি একটি সংবাদ সম্মেলনে রংপুর‑৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে স্বাধীন প্রার্থী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের মানবাধিকার কর্মী অনোয়ারা ইশলাম রানি তার প্রার্থিতার প্রত্যাহার ঘোষণা করেন। তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই পদক্ষেপ নেন।
রানি, যিনি হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে পরিচিত, তার রাজনৈতিক প্রচারণা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি পূর্বে মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে কাজ করে হিজড়া ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি রংপুর‑৩ থেকে প্রত্যাহার করছেন কারণ তিনি সংবিধানে হিজড়া সম্প্রদায়সহ সব প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করার দাবি করছেন। তিনি এই দাবি না মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকে নীতিগত প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
প্রার্থিতার প্রত্যাহারকে ব্যক্তিগত বা দলীয় বিরোধের সঙ্গে যুক্ত না করে, রানি তার সিদ্ধান্তকে একটি নীতিগত ও আন্দোলনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি ভোটারদের অনুরোধ করেন যে, তার নির্বাচনী প্রতীক ‘হরিণ’ এর জন্য কোনো ভোট না দিতে, কারণ তার প্রত্যাহার কোনো রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়।
এছাড়া, রানি সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সমর্থক এবং তার নিজস্ব কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানান যে, তার সিদ্ধান্তের ফলে কোনো উত্তেজনা, সংঘাত বা অপ্রিয় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। তিনি শান্তিপূর্ণ, স্নেহপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়; তিনি নিজেকে কোনো দলের কাছে বিক্রি করা বা কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা করা থেকে বিরত রাখেন। রানি এটিকে বিদ্যমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ়, নীতিগত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করেন।
রানি আরও উল্লেখ করেন যে, হিজড়া সম্প্রদায় ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর সংবিধানিক সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করার জন্য সমর্থন বাড়লে এই দাবি বাস্তবায়িত হতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের সংরক্ষিত আসন প্রান্তিক গোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে।
প্রান্তিক গোষ্ঠীর বাস্তবতা তুলে ধরে রানি বলেন, যদিও সময় পরিবর্তিত হয়েছে, তবুও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারা পিছিয়ে নেই; বরং সমাজের কাঠামোই তাদের পিছিয়ে রাখে।
তিনি নারীর সংরক্ষিত আসনের উদাহরণ দিয়ে দেখান যে, অতীতের তুলনায় নারীর সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়লেও, হিজড়া ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য একই রকম ব্যবস্থা এখনো নেই। এই তুলনা তার দাবিকে আরও দৃঢ় করে।
প্রেস কনফারেন্সে রানির বক্তব্যের পর কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর কাছ থেকে সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি সকল পক্ষকে আহ্বান জানান যে, তার সিদ্ধান্তের ফলে কোনো অশান্তি না ঘটে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
রানির প্রত্যাহার নির্বাচনী গতিবিধিতে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। সংবিধানিক সংরক্ষিত আসনের দাবি বাড়লে ভবিষ্যতে হিজড়া ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে পরিবর্তন আসতে পারে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের আলোচনাকে তীব্র করে তুলবে।



