১৩ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জামাতের খুলনা‑১ আসনের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর নামের একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। কারো কাছ থেকে নন্দীর কোনো মন্তব্যের রেকর্ড পাওয়া যায়নি, এবং ফটোকার্ডে কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
ফটোকার্ডের মূল সংস্করণটি ডিসেম্বর ৪, ২০২২ তারিখে “ডেইলি মোল্লার দেশ” নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়। ঐ পেজটি তার ক্যাটাগরিতে ব্যঙ্গ ও প্যারোডি বিষয়ক কন্টেন্ট তৈরি করার জন্য পরিচিত, এবং সেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে সমান রকমের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেখা যায়। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে আলোচিত ফটোকার্ডটি মূলত হাস্যকর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, বাস্তবিক কোনো বক্তব্যের ভিত্তি নয়।
কৃষ্ণ নন্দী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা‑১ আসনে জামাতের প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত। তার নামের সঙ্গে যুক্ত ভুয়া ফটোকার্ডের প্রচার নির্বাচনী পরিবেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, তবে প্রমাণিত হয়েছে যে এই পোস্টের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে কেন্দ্র করে “পুরুষের হক আছে তার স্ত্রীকে শাসন করার, প্রয়োজন হলে গায়ে হাতও তোলা যাবে” শিরোনামের ফটোকার্ডও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একই দাবি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ভিন্ন ভিন্ন ছবির সঙ্গে পোস্ট করা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারকে নিয়ে কোনো মিডিয়াতে এমন কোনো মন্তব্যের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বরং ২৭ জানুয়ারি খুলনায় অনুষ্ঠিত জামাতের সমাবেশে তিনি স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি বলেন, “যারা মায়েদের গায়ে হাত তোলে, তাদের কাছে মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়”। এই বিবৃতি মূল ফটোকার্ডের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধপূর্ণ।
একই সময়ে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম. এম. নাসির উদ্দিনের নামেও একটি ভুয়া ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়। এতে চ্যানেল ২৪’র লোগো যুক্ত করে “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভূয়া ভোটের বিরোধে পদেক্ষেপ” শিরোনামটি যুক্ত করা হয়েছে। তবে সিইসি এমন কোনো মন্তব্য করেননি, এবং চ্যানেল ২৪ও এই রকম কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি।
চ্যানেল ২৪’র লোগো থাকা সত্ত্বেও ফটোকার্ডে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ নেই, এবং তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একই রকম কোনো ছবি পাওয়া যায় না। তবে গত বছরের ৯ আগস্ট চ্যানেল ২৪ একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছিল, যার শিরোনাম ছিল “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: সিইসি”। ঐ ছবিতে সিইসির পোশাক ও পটভূমি একই রকম, তবে মূল শিরোনাম থেকে কিছু শব্দ বাদ দিয়ে নতুনভাবে “ভূয়া ভোটের বিরোধে পদেক্ষেপ” লেখা হয়েছে।
এই তিনটি ভুয়া ফটোকার্ডের উত্পত্তি ও প্রচার প্রমাণ করে যে নির্বাচনী সময়ে সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা কতটা জরুরি। নির্বাচনের ফলাফল ও প্রার্থীদের সুনাম রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দল ও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্টীকরণ ও সংশোধনী পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে নির্বাচনী কমিশন ও সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ত্বরিতভাবে সংশ্লিষ্ট কন্টেন্টের অপসারণ ও ব্যবহারকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের মিথ্যা প্রচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



