26 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাআইসিসি-ভিত্তিক আর্থিক ক্ষতি ৭৩৪৫ কোটি টাকায়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত

আইসিসি-ভিত্তিক আর্থিক ক্ষতি ৭৩৪৫ কোটি টাকায়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত

আইসিসি ২০২৪ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত আয় প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৩৪৫ কোটি টাকা। ভারতের ও পাকিস্তানের মধ্যে নির্ধারিত ম্যাচ বাতিল হলে, এই আয়ের বড় অংশ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দেবে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না হয়, তবে জিও হটস্টার আগামী চক্রে আইসিসির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সম্ভাবনা রয়েছে। জিও হটস্টার ২০২৩ সালে এই স্বত্ব ৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৬৭২৯ কোটি টাকায় অর্জন করেছিল।

আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, একক ম্যাচ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় হয়, যা প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার সমান এবং বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬১৫০ কোটি টাকা। এই পরিমাণই পুরো চক্রের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে।

বিপর্যয় শুরু হয় যখন বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত ভ্রমণ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়াই আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বোর্ডের আয় হ্রাসের সম্ভাবনা বাড়ে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও বাবর আজমরা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবেন না। তবু, আইসিসি ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত উচ্চপ্রোফাইল ম্যাচটি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা আর্থিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিসির আয় কমে গেলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো বোর্ডে পড়বে, যাদের রাজস্বের বড় অংশ আইসিসি বণ্টন থেকে আসে। একই ঝুঁকি শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আইসিসি-ভিত্তিক এই আর্থিক সংকট শুধুমাত্র একক ম্যাচের বিষয় নয়; এটি বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ আর্থিক কাঠামোকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে। সম্প্রচার স্বত্বের মূলধন ও বণ্টন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা না করলে, বেশ কয়েকটি বোর্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

আইসিসি ২০২৪-২০২৭ চক্রে মোট ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের প্রত্যাশা করলেও, ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের অনুপস্থিতি এই অনুমানকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে, বাকি চক্রের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা পুনর্গঠন করা প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে, নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা দুইটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বোর্ডের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, দেশের উচ্চপ্রোফাইল ম্যাচের অনুপস্থিতি আয় হ্রাসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে। তাই, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্যও আর্থিক ও ক্রীড়া দিক থেকে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতিনিধিরাও একই ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও তাদের আয় আইসিসি থেকে কম, তবু বড় ম্যাচের অনুপস্থিতি সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, আইসিসি-ভিত্তিক আর্থিক ক্ষতি ৭৩৪৫ কোটি টাকার আশঙ্কা নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আর্থিক মডেলকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments