গুজরাতের গাজিয়াবাদে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তিন কিশোরী বোন ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থল হল তাদের বাসার ছাদ, যেখানে তারা একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার আগে বোনেরা মায়ের কাছ থেকে মোবাইল ফোন চেয়েছিল, তবে ফোনে কোনো কোরিয়ান ড্রামা দেখা যায়নি।
বিবাহিত ব্যবসায়ী চেতন কুমার, যিনি তিন বোনের পিতা, তার অতীতের সঙ্গে এই ঘটনার সম্ভাব্য সংযোগ খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে। ২০১৫ সালে চেতনের লিভ‑ইন পার্টনার, যিনি একই গাজিয়াবাদের শাহিবাবাদ পুলিশ স্টেশনের রাজেন্দ্র নগর কলোনির ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে আত্মহত্যা করেন, তার মৃত্যুর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।
চেতনের জীবনের কিছু দিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তিনজনের সঙ্গে বিবাহিত এবং প্রতিটি বোনের মা আলাদা। বোনদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা রয়েছে; সূত্র অনুযায়ী, বোনদের মা ও পিতার সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে দূরত্বপূর্ণ, যেখানে চেতনের সঙ্গে তাদের সংযোগ বেশি দৃঢ়।
বোনদের আর্থিক অবস্থা কঠিন ছিল। চেতন ব্যবসায়িক ঋণ ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে সমস্যায় পড়ে, ফলে তিনি তার কন্যাদের মোবাইল ফোন বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করেন। একই সময়ে, বোনরা কোরিয়ান ড্রামার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাত, যা তারা স্মার্টফোনে দেখত। তবে আত্মহত্যার দিন ফোনে কোনো ড্রামা দেখা যায়নি, যা তদন্তকারীদের প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশের মতে, আত্মহত্যার মুহূর্তে বোনেরা মায়ের কাছ থেকে ফোন চেয়েছিল, কিন্তু ফোনটি কেড়ে নেওয়ার পর তারা ছাদে গিয়ে লাফ দেয়। এই ঘটনার পেছনে ফোনের বিষয়টি কি একমাত্র প্রেরণা, নাকি অন্য কোনো গোপন বিষয় রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চেতনের ২০১৫ সালের আত্মহত্যা ঘটনায়ও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তখন তার লিভ‑ইন পার্টনার ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন, এবং পুলিশ তা আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করেছিল। বর্তমান তদন্তে উভয় ঘটনার সময়সীমা, পদ্ধতি ও পারিবারিক পরিবেশের সাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চেতন কুমার ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার আর্থিক সমস্যার ফলে কন্যাদের মোবাইল বিক্রি করা এবং তাদের পছন্দের কোরিয়ান ড্রামা না দেখতে পারা, সম্ভবত মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
পুলিশ এখনো বোনদের আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পরিবারের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, আর্থিক অবস্থা, এবং পূর্বের আত্মহত্যা ঘটনার সঙ্গে কোনো সংযোগ আছে কিনা তা বিশদভাবে তদন্ত করছে।
গাজিয়াবাদ পুলিশ স্টেশন এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সকল তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। একই সঙ্গে, চেতনের পূর্বের স্বামী বা পার্টনারের আত্মহত্যা সংক্রান্ত রেকর্ডও পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অধিকাংশ সূত্রে বলা হয়েছে, বোনদের মা ও পিতার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর চেতন বোনদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতেন। এই পারিবারিক গতিবিদ্যা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুলিশের মতে, কোনো অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি অপরাধমূলক তদন্তের অধীনে থাকবে। ভবিষ্যতে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে চেতনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা তা নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার পর গাজিয়াবাদে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সামাজিক সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।



