ইতালি ক্রিকেট দল কোচ রিকার্ডো ম্যাগিওর নেতৃত্বে কোয়ালিটি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এডেন গার্ডেনস, কলকাতা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে। এডেন গার্ডেনসের ঐতিহাসিক মাটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ইতালির জন্য টুর্নামেন্টের সূচনা, যেখানে তারা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী সর্বনিম্ন দল হিসেবে অংশগ্রহণ করছে।
ইতালির ক্রিকেট উন্নয়ন অফিসার রিকার্ডো ম্যাগিও, যিনি দেশের ফুটবল‑প্রেমী পরিবেশে ক্রিকেটকে আলাদা করে গড়ে তোলার কাজ জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন, তিনি “ইতালিয়ান মিরাকল” শব্দটি ব্যবহার করে এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে আমাদের উপস্থিতি একবারের জন্য নয়, এটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।” তার মতে, ইতালির উত্সাহ ও ঐতিহ্যই এই অদ্ভুত যাত্রার মূল চালিকাশক্তি।
দলটির অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেন, ৪২ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী এবং ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, স্কটল্যান্ডের সঙ্গে পুনরায় মুখোমুখি হওয়া “একটি বিশাল সম্মান” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি যোগ করেন, “ইতালি ক্যাপ্টেন করা আমার জন্য সহজ কাজ নয়; এই দায়িত্বকে আমি গম্ভীরভাবে গ্রহণ করি।” তার নেতৃত্বে দলটি গ্রুপ সিতে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নেপালসহ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।
ইতালির গ্রুপ সি গঠনটি কঠিন চ্যালেঞ্জের সমষ্টি, তবে ম্যাগিও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি ১৯৯৮ সালে ইতালির হয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এক্সআইয়ের বিরুদ্ধে ছয় উইকেট জয়ের অংশ ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মতে “ক্রিকেট জগতকে চমকে দিয়েছিল”। সেই সময়ের স্মৃতি তাকে আজকের বিশ্বকাপের সুযোগে “কাঁদতে বাধ্য” করে তুলেছে, কারণ তিনি এখনই ইংল্যান্ডের সঙ্গে একই টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশন জানায়, দেশের মধ্যে প্রায় ১,৮০০ সক্রিয় খেলোয়াড় এবং প্রায় ১০০টি ক্লাব রয়েছে। যদিও ফুটবল দেশের সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা পায়, তবে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ ক্রিকেটের জন্য “বৃহৎ বুস্ট” হবে, যা নতুন ভক্ত ও খেলোয়াড়দের আকৃষ্ট করবে। ম্যাডসেনের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতালির উপস্থিতি “আগ্রহ ও বিশ্বাসের সঞ্চার করবে” এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেটের উন্নয়নে সহায়তা করবে।
ক্রিকেটের ইতালিতে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭৯৩ সালে ইংরেজ নৌবাহিনীর নায়ক হোরেশিও নেলসন নেপলসে প্রথম রেকর্ডেড ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করেন, যা মূলত তার নাবিকদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ আছে যে, একটি ইংরেজ‑জন্মের ইতালীয় কর্নেলও এই সময়ে ক্রিকেটের প্রচারে ভূমিকা রেখেছিলেন, যদিও তার নাম মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ইতালির ক্রিকেট যাত্রা এখন নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। এডেন গার্ডেনসে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচের পর, দলটি গ্রুপ সিতে বাকি প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই তাদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দেবে। ফুটবলের ছায়ায় লুকিয়ে থাকা এই ছোট্ট ক্রিকেট দলটি এখন বিশ্বমঞ্চে তার পরিচয় গড়ে তুলতে প্রস্তুত, এবং এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যই তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি হবে।



