26 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরাকের হাজার হাজার নাগরিক ইরানকে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে রক্ষা করতে স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুতি...

ইরাকের হাজার হাজার নাগরিক ইরানকে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে রক্ষা করতে স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুতি জানাল

ইরাকের দিয়ালা প্রদেশে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) একত্রিত হাজার হাজার নাগরিক ইরানকে সম্ভাব্য মার্কিন সরকার আক্রমণের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমাবেশে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং তারা একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

অঙ্গীকারনামায় ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তারা ইরান ও তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর রক্ষায় কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইরাকের সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনও উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইরানীয় ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন হস্তক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যানের সূচক।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরাকের নাগরিকরা ইরান এবং পূর্বের প্রতিবেশী দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত, এবং তারা মার্কিন সরকারের কোনো সামরিক হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। এই অবস্থান ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি ও আঞ্চলিক জোটের পুনঃসংজ্ঞায়নকে নির্দেশ করে, যেখানে ইরাকের কিছু গোষ্ঠী ইরানীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

এই ঘোষণার পটভূমিতে মার্কিন সরকার এবং ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হঠাৎ আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ইরানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলও ইরানের সরকার পতন ও সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

অবস্থার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সরকার ইতোমধ্যে ইরানের উপকূলীয় জলসীমার কাছে বিমানবাহী রণতরী স্থাপন করেছে। এই নৌবাহিনীর উপস্থিতি ইরানের সামরিক ক্ষমতা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কৌশলগত অবস্থানকে নির্দেশ করে। ইসরায়েলও একই সময়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি গঠনের নতুন দিক নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ইরাকের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী ও ইরানীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে বাড়তে থাকা পারস্পরিক নির্ভরতার সূচক হিসেবে দেখছেন। একজন কূটনীতিকের মতে, “ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর এই অঙ্গীকার ইরান-ইরাক সম্পর্ককে সামরিকভাবে দৃঢ় করতে পারে, তবে একই সঙ্গে মার্কিন সরকারকে আঞ্চলিক কৌশলে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।” এই মন্তব্য ইরাকের ভূমিকা এবং তার সীমান্তের নিরাপত্তা নীতির পরিবর্তনকে তুলে ধরেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, যদি মার্কিন সরকার ইরানে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ সংঘর্ষের মাত্রা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, ইরানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সমর্থন ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখতে এবং ইরানীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে পারে।

পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে তীব্র আলোচনা প্রত্যাশিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইরাকের প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রতিরোধে সমঝোতা খোঁজার চেষ্টা করবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, এই বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করতে পারে, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য যৌথ পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়।

সারসংক্ষেপে, ইরাকের হাজার হাজার নাগরিকের স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুতি ইরানকে সম্ভাব্য মার্কিন সরকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই অঙ্গীকারের ফলে ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি, ইরান-ইরাক জোট এবং মার্কিন সরকারের আঞ্চলিক কৌশল পুনরায় মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে নাকি আঞ্চলিক উত্তেজনা শীতল হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments