ঝালকাঠি জেলায় দুইটি সংসদীয় আসন, মোট ভোটার সংখ্যা ৫,৯৩,৮২৮, যেখানে নদীভাঙনের ফলে জমি হারানোর সমস্যায় ভুগছে স্থানীয় মানুষ। নির্বাচনের দিন নিকটে এসে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তবে পূর্বে সরকারী বরাদ্দের ঘাটতি দীর্ঘদিনের অভিযোগের মূল বিষয় রয়ে গেছে।
ঝালকাঠি জেলায় চারটি উপজেলা—ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, কুমিল্লা এবং গৌরবপুর—গঠিত, যেগুলোতে নদীভাঙনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মৌলিক অবকাঠামো, সড়ক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধা এখনও অপর্যাপ্ত, ফলে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি এই দুই আসনে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে, তবে এই নির্বাচন চক্রে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করছে। পার্টির স্থানীয় সংগঠন সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটার ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাবও ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয় মানুষদের মতে, উন্নয়নের অভাব এবং সরকারী তহবিলের অল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যার মূল কারণ। কিছু ভোটার উল্লেখ করেছেন, পিরোজপুরের মতো প্রতিবেশী জেলায় জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা নেই, তবে ঝালকাঠিতে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে অবস্থিত দেউড়ি প্রাইমারি স্কুলের মাঠে, পাশের মিম স্টোরে ভোট নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছিল। দোকানদার ও গ্রাহকরা উভয় দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করে, চাপা ভোটের সম্ভাবনা এবং ফলাফল অনিশ্চিত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
মিম স্টোরের মালিকের মতে, বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি উভয় দলের সমর্থকই এখানে সক্রিয়, এবং ভোটারদের মধ্যে চাপা ভোটের সম্ভাবনা বাড়ছে। তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে তা এখনো বলা কঠিন।
ঝালকাঠি-২ আসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী এস এম নায়েমুল করিমের মধ্যে। উভয় প্রার্থীরই স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ভোটার ভিত্তি রয়েছে।
ইলেন ভুট্টো ২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, এবং তার স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৯৬ সালের জুনে জাতীয় পার্টি থেকে একই আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই পারিবারিক ঐতিহ্য তাদের কিছু স্বতন্ত্র ভোটার সমর্থন নিশ্চিত করে।
এস এম নায়েমুল করিম পূর্বে বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস হিসেবে কাজ করেছেন, যা তাকে শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি স্বীকৃত পরিচয় দেয়। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তুলনামূলকভাবে নতুন, তবে স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে সমর্থন গড়ে তুলছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগের ভোটও এই দুই আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদিও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে, তবে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি ভোটের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
নগর ও গ্রামীণ এলাকায় ভোটারদের চাহিদা ও প্রত্যাশা ভিন্ন, তবে উভয় ক্ষেত্রেই উন্নয়ন, সড়ক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রার্থীরা এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে প্রচার চালাচ্ছেন, তবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি এখনও প্রশ্নের মুখে।
নির্বাচনের ফলাফল ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে। যদি জামায়াত-এ-ইসলামি জয়লাভ করে, তবে পার্টির স্থানীয় প্রভাব বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিএনপি পুনরায় জয়লাভ করে, তবে পূর্বের রাজনৈতিক কাঠামো বজায় থাকবে। উভয় ক্ষেত্রেই ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে সরকারী তহবিলের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে।



