26 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅস্ট্রেলিয়ার লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন ক্যানবেরায় পুনর্মিলিত

অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন ক্যানবেরায় পুনর্মিলিত

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিরোধী গোষ্ঠী লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন রবিবার ক্যানবেরায় একত্রিত হয়েছে, দুই সপ্তাহের বিরোধের পর আবার একসাথে কাজ করার সংকেত দিয়েছে। কোয়ালিশনের দুই শাখা—লিবারেল পার্টি ও ন্যাশনাল পার্টি—একই সময়ে উপস্থিত হয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। পুনর্মিলনের পেছনে মূল কারণ ছিল হেট স্পিচ আইন নিয়ে উত্থাপিত মতবিরোধ, যা গত মাসে উভয় পার্টির মধ্যে তীব্র টানাপোড়েনের সৃষ্টি করেছিল।

কোয়ালিশনের বিচ্ছেদ ২২ জানুয়ারি ঘটেছিল, যখন ন্যাশনাল পার্টি সরকার প্রস্তাবিত হেট স্পিচ সংস্কারকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ন্যাশনাল পার্টি সদস্যরা স্বাধীন মত প্রকাশের সুরক্ষার জন্য সংশোধনীকে তাড়াতাড়ি এবং অতিরিক্ত সীমাবদ্ধ বলে দাবি করে ভোটে বিরোধিতা করে। লিবারেল পার্টি সরকারী প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভোট দেয়, ফলে দুই শাখার মধ্যে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।

এই আইন প্রণয়নের পটভূমি ছিল ডিসেম্বর মাসে বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসবে দুই গুলিবিদ্ধের আক্রমণ, যেখানে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আক্রমণটি দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং সরকারকে হেট স্পিচ মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করেছিল। এই ঘটনার পর হেট স্পিচ সংক্রান্ত আইন দ্রুত গৃহীত হয়, যা উভয় পার্টির মধ্যে মতবিরোধের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লিবারেল পার্টি সরকারী প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হেট গ্রুপগুলোকে নিষিদ্ধ করা এবং সহিংসতা উস্কে দেওয়া ধর্মীয় বক্তাদের জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের বিধানকে সমর্থন করে। অন্যদিকে ন্যাশনাল পার্টি নিম্নসভার ভোটে অনুপস্থিত থাকে এবং সিনেটে বিরোধিতা করে, কারণ তারা মনে করে এই বিধানগুলো স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে। উভয় পার্টি আইনটির ত্বরান্বিত প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত হয়।

হেট স্পিচ আইনটি মূলত এমন গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করবে, যাদের কাজ হিংসা বা বৈষম্যকে উস্কে দেয়, এবং ধর্মীয় বক্তাদের জন্য সহিংসতা প্রচারের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করবে। আইনটি সরকারকে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার মধ্যে সমতা রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। এই প্রস্তাবের সমর্থকরা এটিকে নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করে, আর সমালোচকরা স্বাধীনতা হ্রাসের ঝুঁকি উল্লেখ করে।

ক্যানোবেরায় অনুষ্ঠিত পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে লিবারেল পার্টির নেতা সুসান লে এবং ন্যাশনাল পার্টির নেতা ডেভিড লিটলপ্রাউড একসাথে উপস্থিত ছিলেন। উভয় নেতাই পুনর্মিলনের গুরুত্ব তুলে ধরে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই সাক্ষাৎকারে তারা উল্লেখ করেন যে কোয়ালিশনকে এখন একত্রে কাজ করে সরকারের নীতিমালা পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতি প্রণয়নে মনোযোগ দিতে হবে।

সুসান লে বলেন, কোয়ালিশন এখন পুনরায় একত্রিত হয়েছে এবং অতীতের বিরোধের বদলে ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে মনোযোগ দেবে। তিনি উল্লেখ করেন যে বহু সমর্থক ও সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা রয়েছে যে দুইটি প্রধান বিরোধী দল একসাথে কাজ করে দেশের রাজনৈতিক পর্যালোচনায় ভূমিকা রাখবে। লে আরও জানান, কোয়ালিশনের পুনর্মিলন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে বলে তিনি আশাবাদী।

ডেভিড লিটলপ্রাউড বলেন, হেট স্পিচ আইন নিয়ে মতবিরোধের ফলে কোয়ালিশনকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করা একটি কঠিন সময় ছিল, তবে বিষয়টি মূলত নীতিগত পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ছিল। তিনি যুক্তি দেন যে স্বাধীন মত প্রকাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখার মধ্যে সমতা রক্ষা করা জরুরি। লিটলপ্রাউডের মতে, এখন কোয়ালিশনকে একসাথে কাজ করে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে।

পুনর্মিলনের পর উভয় পার্টি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে কোয়ালিশনের যৌথ শ্যাডো ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তকে উভয় শাখা অগ্রাহ্য করতে পারবে না। এই চুক্তি কোয়ালিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে একমত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে। উভয় দলই এই ব্যবস্থা তাদের সমন্বিত নেতৃত্বের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

ইতিহাসে কোয়ালিশন ১৯৪০-এর দশক থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত একত্রে কাজ করেছে, তবে গত বছর মে মাসে জলবায়ু ও জ্বালানি নীতির ওপর মতবিরোধের ফলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটায়। এই বছরের জানুয়ারি বিচ্ছেদটি হেট স্পিচ সংস্কার নিয়ে প্রথমবারের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের উদাহরণ। পুনর্মিলন শেষে কোয়ালিশন আবার একত্রে কাজ করার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা পেতে চায়। ভবিষ্যতে এই ঐক্য সরকারী নীতিমালা পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments