24 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাআইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে বলি-দৌড়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেছে

আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে বলি-দৌড়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেছে

আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)কে ১৫ ফেব্রুয়ারি টি২০ বিশ্বকাপের ভারত‑বিরোধী ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ লিখিতভাবে জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। পিসিবি এই পদক্ষেপকে ফোর্স মেজ্যুর ধারা প্রয়োগের দাবি করেছে, যা সরকারী আদেশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।

ফোর্স মেজ্যুর ধারা সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অশান্তির মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য ব্যবহৃত হয়। আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী সরকারী নির্দেশনা থেকেও এই ধারা প্রয়োগ করা যায়, তবে তা প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।

পাকিস্তানের সরকার প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে (X) জানায় যে দলটি মাঠে নামবে না, এরপর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফ ক্যাবিনেটের মাধ্যমে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এটি বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার প্রতি সংহতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এই ঘোষণাগুলি পিসিবি কর্তৃক ফোর্স মেজ্যুরের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

আইসিসি পিসিবিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে, সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (MPA) অনুযায়ী পিসিবিকে পরিস্থিতি হ্রাসের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিতে হবে। চুক্তিতে ফোর্স মেজ্যুরের বৈধতা প্রমাণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ রয়েছে।

আইসিসি ফোর্স মেজ্যুরের বৈধতা নির্ধারণের জন্য কঠোর শর্তাবলী তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে পূর্বে সতর্কতা জানানো, সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থা অনুসন্ধান এবং অন্যান্য সদস্য দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে পিসিবিকে ক্রীড়া, বাণিজ্যিক ও শাসন সংক্রান্ত প্রভাবের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

আইসিসি উল্লেখ করেছে যে, ম্যাচ বাতিল হলে পিসিবি থেকে বাস্তবিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা যেতে পারে। সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে, গুরুতর চুক্তিভঙ্গের ফলে সদস্যপদ স্থগিত বা সমাপ্তির সম্ভাবনাও আইসিসি বিবেচনা করতে পারে।

পিসিবি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা আইসিসির দাবির মোকাবেলায় শক্তিশালী আইনি ভিত্তি রাখে। বোর্ডের কর্মকর্তারা পূর্বের বিসিসিআই‑সংশ্লিষ্ট বিরোধকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন, যেখানে ২০১৪ সালের স্মারক চুক্তি (MoU) লঙ্ঘনের ফলে ভারতীয় সরকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাধা দেয়া হয়েছিল।

সেই বিরোধে আইসিসির বিরোধ সমাধান কমিটি (DRC) জড়িত ছিল এবং সরকারী নিষেধাজ্ঞা ফোর্স মেজ্যুরের একটি উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল। পিসিবি এই পূর্বের সিদ্ধান্তকে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োগযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে।

বর্তমানে আইসিসি পিসিবির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নথিপত্রের অপেক্ষা করছে। পিসিবি কখন এবং কীভাবে উত্তর দেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে আইসিসি উল্লেখ করেছে যে সময়সীমা পূরণ না হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই বিতর্কের ফলে টি২০ বিশ্বকাপের সময়সূচিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন ঘটতে পারে। ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচটি টুর্নামেন্টের শীর্ষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত, এবং এর বাতিল হলে অন্যান্য দলগুলোর শিডিউল ও টিকিট বিক্রয় প্রভাবিত হবে।

আইসিসি সবসময় ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং সকল সদস্যকে চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আইসিসি উল্লেখ করেছে যে, কোনো দলই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ক্রীড়া কার্যক্রমে বাধা দিতে পারবে না।

টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলো ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে, এবং আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, সকল দলকে সমান সুযোগ প্রদান করা হবে। তবে পিসিবি ও আইসিসির মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল টুর্নামেন্টের সামগ্রিক গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments