যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে সমন্বিতভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ৪৮টি দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও উচ্চমানের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দল তাদের ‘বেস ক্যাম্প’ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফিফা এখনো সব দলের চূড়ান্ত অবস্থান প্রকাশ করেনি, তবে কিছু শীর্ষ দল ইতিমধ্যে তাদের ক্যাম্পের ঠিকানা নির্ধারণ করেছে।
বেস ক্যাম্পের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হোটেলের মান, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ভেন্যুতে দ্রুত প্রবেশ‑প্রস্থান, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম শহরগুলোই দলগুলোর দৌড়ের লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
ক্রোয়েশিয়া দল আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ক্যাম্প স্থাপন করেছে। শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে দলীয় বাসস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে, আর প্রশিক্ষণের জন্য এপিসকোপাল হাইস্কুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কোচ জ্লাতকো দালিচের মতে, হোটেল, প্রশিক্ষণ মাঠ ও শহরের পরিবহন ব্যবস্থা সবই তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল।
জার্মানির দল নর্থ ক্যারোলাইনা, উইনস্টন‑সালেমে ক্যাম্প গঠন করেছে। প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটিকে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ফুটবলের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। দলের বাসস্থান গ্রেইলিন এস্টেটে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা প্রশিক্ষণ‑পরবর্তী বিশ্রামের জন্য আদর্শ পরিবেশ প্রদান করে।
স্পেনের বেস ক্যাম্প টেনেসি, চ্যাটানুগা শহরে নির্ধারিত হয়েছে। শহরের এম্বেসি সুইটস হোটেলে দলীয় সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে, আর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেলর স্কুলে পরিচালিত হবে। পূর্বে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটি দলও একই স্থানে প্রশিক্ষণ করেছিল, যা এই স্থানের আন্তর্জাতিক মানকে প্রমাণ করে।
উরুগুয়ের দল মেক্সিকোর প্লেয়া দেল কারমেনে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। সাদা বালু ও নীল সমুদ্রের তীরবর্তী এই পর্যটন গন্তব্যে আধুনিক অবকাঠামো এবং অন্যান্য ভেন্যুতে দ্রুত পৌঁছানোর সুবিধা রয়েছে। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে এখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া তাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের বেস ক্যাম্পের চূড়ান্ত ঠিকানা এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই তিনটি দলই টুর্নামেন্টের শীর্ষপ্রতিযোগী হিসেবে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
দলগুলো হোটেলের মান, প্রশিক্ষণ মাঠের গুণগত মান, ক্যাম্প থেকে ম্যাচ ভেন্যু পর্যন্ত দূরত্ব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোপনীয়তা রক্ষার সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া স্থানীয় পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং খাবারের মানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এইসব মানদণ্ড পূরণে সক্ষম শহরগুলোই শেষ পর্যন্ত বেস ক্যাম্পের জন্য নির্বাচিত হয়।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সকল দল তাদের ক্যাম্পের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ করবে এবং প্রশিক্ষণ সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নেবে। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে পর্যন্ত বেস ক্যাম্পের অবস্থান ও সুবিধা নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্রভাবে চলবে।



