১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় তিন হাজার গাড়ি সরকারী কাজে রিকুইজিশন করা হয়েছে। রিকুইজিশনের মধ্যে দূরপাল্লা, আন্তঃজেলা রুটের বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহন অন্তর্ভুক্ত, যা ভোটার ও প্রার্থী গোষ্ঠীর গতি নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে।
এই রিকুইজিশনকৃত গাড়িগুলোর জন্য দৈনিক ভাতা ৪,৯০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা গাড়ি মালিক ও চালকের মধ্যে ভাগ করা হবে। ভাতার মধ্যে চালকের বেতন, হেল্পারের খাবার এবং অন্যান্য মৌলিক খরচ অন্তর্ভুক্ত, আর বাকি অংশ গাড়ি মালিকের স্বার্থে রাখা হবে।
প্রাথমিকভাবে গাড়ি মালিকদের মধ্যে ভাতার পরিমাণ নিয়ে কিছু সংশয় দেখা গিয়েছিল। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল যে নির্ধারিত টাকা তাদের প্রকৃত ব্যয় পূরণে যথেষ্ট হবে কিনা, বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বিবেচনা করে।
এই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষের মতামত শোনা হয় এবং সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হয়। আলোচনার শেষে গাড়ি মালিকদের দাবি কিছুটা স্বীকৃত হয় এবং ভাতার কাঠামোতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক (সদর) এ.এস.এম. আহম্মেদ খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, রিকুইজিশনকৃত গাড়ি যতদিন সংশ্লিষ্ট সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকবে, ততদিনের জন্য দৈনিক ভাতা প্রদান করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্ধারিত ৪,৯০০ টাকার মধ্যে চালকের বেতন, হেল্পারের খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত, আর অবশিষ্ট অংশ গাড়ি মালিকের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
ভাতার মধ্যে জ্বালানি খরচের দায়িত্ব সরকারী সংস্থা বহন করবে, ফলে গাড়ি মালিকদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমে যাবে। এই ব্যবস্থা গাড়ি চালকদের দীর্ঘ সময়ের রুটে কাজ করার সময় তাদের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।
গাড়ি রিকুইজিশনের পর, মালিকদেরকে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গাড়িগুলোকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হবে।
এই রিকুইজিশন প্রক্রিয়া নির্বাচনের সময়সূচি মেনে চলার পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্যাম্পেইন কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গাড়ি সরবরাহের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর গতি বৃদ্ধি পাবে, যা ভোটার অংশগ্রহণের হার বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অধিকন্তু, গাড়ি মালিক সমিতি ও সরকারী সংস্থার মধ্যে এই ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রস্তুতির সময় আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
পরবর্তী ধাপে, রিকুইজিশনকৃত গাড়িগুলোকে নির্ধারিত রুটে নিয়োজিত করা হবে এবং নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। গাড়ি মালিকদেরকে ভাতা প্রদান ও ফরম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট সংস্থা গাড়িগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব নেবে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো বাধা না আসে।



