চেন্নাইতে আজ টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দল আফগানিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি গ্রুপ ডি‑এর প্রথম খেলায় অন্তর্ভুক্ত, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা এ, ইউএই এবং কানাডা-ও একই গ্রুপে রয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুর মুহূর্তে দলটি কীভাবে পারফর্ম করবে, তা পুরো টুর্নামেন্টের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজিল্যান্ড এখনো কোনো ফরম্যাটে বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি, তাই এই টুর্নামেন্টটি প্রথম শিরোপা অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে দলটি সম্প্রতি হোস্ট ভারত এ‑এর বিরুদ্ধে পাঁচটি টি২০ আন্তর্জাতিকের সিরিজে ১-৪ পরাজিত হয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা আঘাত হানতে পারে। তদুপরি, ২০২৪ সালের শেষ সংস্করণে নিউজিল্যান্ড সুপার‑৮ পর্যায়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল, ফলে এইবারের প্রস্তুতি ও কৌশলকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
নিউজিল্যান্ডের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার মিশ্রণ রয়েছে; প্রতিষ্ঠিত তারকা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বহুমুখী অল-রাউন্ডারদের সমন্বয় দলকে সমন্বিত করে। এর মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী জেমস নীশাম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অল-রাউন্ডার, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলেছেন। নীশাম টুর্নামেন্টের সম্ভাবনা, দলের অতীতের ব্যথা এবং বর্তমান মনোভাব সম্পর্কে বিস্তারিত মতামত শেয়ার করেছেন।
নীশামের মতে, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে শক্তিশালী দল গঠন করা সম্ভব, তবে বিশ্বস্তরের টুর্নামেন্টে অপ্রত্যাশিত ফলাফল ঘটতে পারে। তিনি প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছেন, “প্রতিটি খেলাকে আলাদা করে দেখা হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছানোর আশা রাখি”। এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে এবং একাধিক সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করবে।
স্পিনের ভূমিকা সম্পর্কে নীশাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, চেন্নাইয়ের পিচে স্পিনের প্রভাব বেশি থাকবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “দক্ষিণ আফ্রিকা এ এবং আফগানিস্তান উভয়েরই ভাল স্পিনার আছে, আর আমাদের দলের মধ্যে মিচেল স্যান্টার ও ইশ সোধি মত অভিজ্ঞ স্পিনার রয়েছে”। নীশাম আশা প্রকাশ করেছেন যে, স্পিনারদের দক্ষতা ব্যবহার করে দলটি গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করতে পারবে এবং চেন্নাইয়ের ঘাসে স্পিনের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে।
টিমের প্রস্তুতি সম্পর্কে নীশামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হলো, ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপের আগে দলটি কিছুটা অপর্যাপ্ত ছিল, তবে ভারত এ‑এর সঙ্গে পাঁচটি ম্যাচের সিরিজ তাদের জন্য মূল্যবান প্রস্তুতি প্রদান করেছে। তিনি বলছেন, “ইন্ডিয়ার সঙ্গে সিরিজটি আমাদের জন্য খুবই উপকারী ছিল, যা আমাদের গেম প্ল্যান ও মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে”। এই অভিজ্ঞতা দলকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার জন্য মানসিক ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করেছে।
প্রথম ম্যাচের পর নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হয়েছে, যা গ্রুপ ডি‑এর অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে। দলটি যদি প্রথম ম্যাচে জয়লাভ করে, তবে গ্রুপের শীর্ষে উঠে সুপার‑৮ পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। নীশাম জোর দিয়ে বলেছেন, “প্রতিটি গেমকে গুরুত্ব দিয়ে খেলতে হবে, যাতে আমরা ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারি”। এই মনোভাব দলকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং গ্রুপের শীর্ষে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, নিউজিল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপের যাত্রা এখনো শুরু হয়েছে, তবে দলের অভিজ্ঞতা, স্পিনারদের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক প্রস্তুতি তাদের জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। প্রথম ম্যাচের ফলাফল এবং পরবর্তী গেমের পারফরম্যান্স নির্ধারণ করবে দলটি কতটা দূর পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারবে। টুর্নামেন্টের অগ্রগতি অনুসারে নিউজিল্যান্ডের সম্ভাবনা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে, এবং ভক্তদের জন্য এই শুরুর মুহূর্তটি উত্তেজনাপূর্ণ প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে।



