২৬ বছর বয়সী গায়িকা ইফুনান্যা নওয়াঞ্জে শনিবার সকাল প্রায় আটটায় তার আবুজা, নাইজেরিয়ার রাজধানীর এক তলায় থাকা ফ্ল্যাটে সাপের কামড়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। সাপটি তার শোয়ানোর সময় তার কব্জিতে কামড়ায়, ফলে তীব্র ব্যথা তাকে জাগিয়ে তোলে।
কামড়ের পর ইফুনান্যা নিজে একটি দড়ি দিয়ে কব্জির চারপাশে টার্নিকেট বাঁধে, যা তখনও সাপের বিষ রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়া রোধের জন্য প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী টার্নিকেট ব্যবহার নিষিদ্ধ, কারণ রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে টিস্যু ক্ষতি ও অঙ্গহানি বাড়তে পারে। বর্তমানে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে শান্ত থাকা, আক্রান্ত অঙ্গকে অচল রাখা এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইফুনান্যা প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনমের জন্য আবেদন করেন, কিন্তু হাসপাতালের ওষুধের স্টকে অ্যান্টিভেনম না থাকায় তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। স্থানান্তরের সময় তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়, ফলে তিনি জাবি ফেডারেল মেডিকেল সেন্টারে পৌঁছান। সেখানে তার চাচা উপস্থিত হয়ে তাকে জরুরি ড্রিপ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন।
ড্রিপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফুনান্যার শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন হ্রাস পায়, এবং তিনি কথা বলতে অক্ষম হয়ে পড়েন। তার পরিবার ও নিকটস্থ বন্ধুদের জানানো হয় যে অ্যান্টিভেনমের মাত্র কিছুই তাকে দেওয়া হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ ডোজের অভাবে বিষের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
ইফুনান্যার মৃত্যুর পর তার পরিবার এবং বন্ধুদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি তীব্র উদ্বেগ দেখা যায়। নাইজেরিয়া বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ সাপের কামড়ের ঘটনা রিপোর্ট করে, তবে দেশের বেশিরভাগ হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি রয়ে যায়। এই ঘাটতি রোগীর জীবনরক্ষায় বড় বাধা সৃষ্টি করে এবং সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাপের কামড়ের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের বেশিরভাগই বিদেশি উৎপাদন, যা আমদানি, সংরক্ষণ এবং বিতরণে জটিলতা তৈরি করে। ফলে গ্রামীণ ও নগর উভয় এলাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা পেতে পারেন না। এছাড়া, অ্যান্টিভেনমের উচ্চ মূল্য ও সীমিত সরবরাহের কারণে অনেক রোগী আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হন।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন যে অ্যান্টিভেনমের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সাপের কামড়ের প্রাথমিক সেবা ও অ্যান্টিভেনমের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা জরুরি।
জনসচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ; মানুষকে টার্নিকেটের পরিবর্তে শান্ত থাকা, আক্রান্ত অঙ্গকে অচল রাখা এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশনা দিতে হবে। সাপের কামড়ের ঝুঁকি কমাতে পরিবেশগত সচেতনতা, সাপের বাসস্থান ও মানব বসতির মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা এবং সাপের সঙ্গে সংস্পর্শে এলে কীভাবে সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে তা শেখানো প্রয়োজন।
ইফুনান্যা নওয়াঞ্জের দুঃখজনক মৃত্যু সাপের কামড়ের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি এবং পুরনো চিকিৎসা পদ্ধতির ঝুঁকি উন্মোচন করেছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কি সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থা দ্রুত অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ বাড়িয়ে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারবে?



