ওয়াশিংটন পোস্টের সিইও উইল লুইস কর্মী ছাঁটাইয়ের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। লুইসের বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রকাশনা তার কর্মীসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে স্পোর্টস ও আন্তর্জাতিক সংবাদ কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।
বছরের শেষের দিকে প্রকাশনা তার কর্মীসংখ্যা তৃতীয়াংশ কমানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যার ফলে স্পোর্টস বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের দল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো দল এবং কিয়েভে কাজ করা ইউক্রেনের প্রতিবেদকসহ বহু কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
কর্মী ছাঁটাইয়ের পরপরই ওয়াশিংটন ডি.সিতে প্রকাশনার সদর দফতরের সামনে শত শত কর্মী ও সমর্থক প্রতিবাদে সমবেত হন। প্রতিবাদকারীরা সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রকাশনার এক্সিকিউটিভ এডিটর ম্যাট মারি উল্লেখ করেন, এই ছাঁটাইগুলো প্রকাশনার আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকাশনা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে।
প্রাক্তন ডাও জোন্সের সিইও এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশক হিসেবে কাজ করা লুইস ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের সিইও হিসেবে নিযুক্ত হন। তার মেয়াদে তিনি আর্থিক ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেন, তবে তা গ্রাহক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে সমালোচনার মুখে পড়ে।
লুইসের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক প্রধান জেফ ডি’অনফ্রিওকে অস্থায়ী প্রকাশক ও সিইও হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ডি’অনফ্রিও গত বছরই প্রকাশনার সিএফও হিসেবে যোগদান করেন এবং এখন তিনি নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
মার্টি ব্যারন, যিনি ২০২১ পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ এডিটর ছিলেন, তিনি ছাঁটাইগুলোকে “বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সংবাদ সংস্থার ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলোর মধ্যে” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মন্তব্য প্রকাশনার অভ্যন্তরে এবং মিডিয়া বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
অধিকন্তু, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ঐতিহ্যবাহী সমর্থন নীতি ভেঙে প্রকাশনা কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭০ দশক থেকে পোস্ট সাধারণত ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের সমর্থন করত। এই পরিবর্তন ব্যাপক সমালোচনা ও সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা হ্রাসের দিকে নিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওয়াশিংটন পোস্টের ব্যবসায়িক মডেল ও বাজার অবস্থানে বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন। কর্মীসংখ্যা হ্রাস এবং কন্টেন্টের পরিধি সংকুচিত হওয়া বিজ্ঞাপন আয় ও সাবস্ক্রিপশন বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, বেজোসের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন প্রকাশনার ব্র্যান্ড ইমেজে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রকাশনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এখন নতুন নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। ডি’অনফ্রিও কীভাবে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কন্টেন্টের গুণগত মান উন্নত করবেন, তা শিল্পের নজরে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, উইল লুইসের পদত্যাগ এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে ওয়াশিংটন পোস্টের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও বাজার কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রকাশনা কীভাবে পুনর্গঠন করবে এবং পাঠকের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করবে, তা সময়ই বলবে।



