14.5 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরোববার থেকে ১,০৫১ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের মাঠে

রোববার থেকে ১,০৫১ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের মাঠে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রোববার থেকে ১,০৫১ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে ভোটের মাঠে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরাও ভোটের প্রস্তুতিতে অংশ নেবে। মোতায়েনের সময়সীমা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত, যাতে শেষ ভোটের দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

মাছউদের মতে, সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে নির্বাচনের বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত রয়েছে এবং রোববার থেকে আরও সদস্যদের যোগদান হবে। তিনি যোগ করেন, “সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। কাল রোববার থেকে আরও যুক্ত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে।” এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ভোটারদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সকল পক্ষই দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক বলে মত প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।” এই সমন্বয় ভোটের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।

ব্যালট বাক্সের বিতরণও জেলাভিত্তিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো সংগ্রহে ব্যস্ত। মাছউদ উল্লেখ করেন, “সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলা গ্রহণ করছে। এখন সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।” ফলে ভোটের দিন কোনো লজিস্টিক সমস্যার সম্ভাবনা কমে যাবে।

ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তবে মাছউদ এ বিষয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “না, আমরা ওটাকে চিন্তিত মনে করি না। তবে নির্বাচনের যেহেতু আর দুই-চার দিন বাকি আছে। তাদের দাবিদাওয়া থাকতেই পারে। তারা যেন নির্বাচনের স্বার্থে এই দাবিদাওয়াগুলো আপাতত বন্ধ রাখে। এটা আমরা আহ্বান জানাই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে সম্পূর্ণ সন্তোষজনক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এছাড়া স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় ইন-ইডি-টু-সিভিল পাওয়ারের আওতায় অতিরিক্ত সশস্ত্র কর্মী নিয়োগ করা হবে।

মোট ৯,৭০,০০০ের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মী এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ৫,৭৬,৪৮৩ জন, সেনাবাহিনী ১,০৩,০০০ জন, নৌবাহিনী ৫,০০০ জন, বিমানবাহিনী ৩,৭৩০ জন, বাংলাদেশ সরকারের সীমানা রক্ষাকারী (বিজিবি) ৩৭,৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩,৫৮৫ জন, পুলিশ ১,৮৭,৬০৩ জন, র‌্যাব ৯,৩৪৯ জন এবং চৌকিদার-দফাদার ৪৫,৮২০ জন অন্তর্ভুক্ত।

এই বিশাল মানবশক্তি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থাকবে, যা ভোটের দিন ও তার পরের সাত দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উপস্থিতি ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সম্ভাব্য অশান্তি দমন করবে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এত বড় পরিসরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তারা তাও সতর্ক করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের সময় মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে।

অবশেষে, নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, ভোটের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর, নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ ও সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments