মিসিসিপির এসকাটাওপায় ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ব্র্যাড আরনল্ড, ৩ ডোরস ডাউন ব্যান্ডের মূল গায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, শনিবার রাত তার ঘুমের মধ্যে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের পর মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স ৪৭ বছর।
মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি তার স্ত্রী জেনিফার এবং ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্যদের সান্নিধ্যে ছিলেন। ব্যান্ডের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে তার পরিবারকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্যান্ডের প্রতিনিধিরা আরনল্ডের সঙ্গীতের প্রভাবকে তুলে ধরে বলেছিলেন, তিনি মূলধারার রক সঙ্গীতে নতুন দিক যোগ করে পোস্ট‑গ্রাঞ্জের সহজলভ্যতা ও সরল গীতিকবিতা একত্রে মিশ্রণ করেছেন। তার রচনাশৈলী তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।
বিবৃতিতে আরনল্ডকে এক নিবেদিত স্বামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরিবারকে এই কঠিন সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
আগস্ট মাসে আরনল্ড নিজে ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে প্রকাশ করেন, তিনি স্টেজ‑৪ কিডনি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ভয় নেই এবং রোগের কারণে গ্রীষ্মের ট্যুর বাতিল করতে হচ্ছে। এই ঘোষণার পর ভক্তদের কাছ থেকে সমর্থনের বার্তা বয়ে গিয়েছে।
১৯৯৬ সালে আরনল্ড, টড হারেল এবং ম্যাট রবার্টস একসাথে উচ্চ বিদ্যালয়ের সময় ব্যান্ডটি গঠন করেন। ব্যান্ডের নাম ৩ ডোরস ডাউন, যা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের রক সঙ্গীতের মানচিত্রে স্থান করে নেয়।
২০০০ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম “দ্য বেটার লাইফ” সেই বছরের একাদশ সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃত হয়। “ক্রিপ্টোনাইট”, “লুজার” এবং “বি লাইক দ্যাট” গানগুলো বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে, যা ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়।
এরপর থেকে ব্যান্ডটি মোট ছয়টি স্টুডিও অ্যালবাম রিলিজ করে, সর্বশেষ “আস অ্যান্ড দ্য নাইট” ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই সময়কালে আরনল্ডের গীতিকবিতা ও কণ্ঠস্বর ব্যান্ডের সাউন্ডের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে।
সঙ্গীত সমালোচকরা উল্লেখ করেন, আরনল্ডের রচনাশৈলী দৈনন্দিন জীবনের অনুভূতিকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে, যা শোনার সময় শ্রোতাদের মধ্যে সংযোগ ও আনন্দের সঞ্চার ঘটায়। তার সৃষ্টিগুলো স্টেজের বাইরে থেকেও মানুষের হৃদয়ে গুঞ্জরিত হয়।
ব্র্যাড আরনল্ডের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জেনিফার একমাত্র বেঁচে থাকা নিকট আত্মীয়। পরিবার ভবিষ্যতে গোপনীয়তা বজায় রাখতে চায় এবং শোকের সময়ে সমর্থন কামনা করে।
ব্যান্ডের সহ-সদস্য ও ভক্তরা আরনল্ডের সঙ্গীতের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানিয়ে, তার গানের মাধ্যমে জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তে সান্ত্বনা ও প্রেরণা পেতে থাকবেন। তার সৃষ্টিগুলো ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সাংস্কৃতিক রত্ন হিসেবে রয়ে যাবে।



