14.5 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ টাইমসের ২১ কর্মীকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার, পরে মুক্তি

বাংলাদেশ টাইমসের ২১ কর্মীকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার, পরে মুক্তি

ঢাকার নিকুঞ্জা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ টাইমসের অফিসে রাত ৯:৩০ টার দিকে সেনা কর্মীদের হস্তক্ষেপে ২১জন সাংবাদিক, নিরাপত্তা গার্ড এবং অফিস সহকারী গ্রেপ্তার হন; দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তারা ক্যাম্প থেকে মুক্তি পায়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রিপোর্টার, সম্পাদক এবং সাইটের নিরাপত্তা কর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রেপ্তার হওয়ার মুহূর্তে তারা কাজের মধ্যে ছিলেন এবং কোনো সহিংসতা ঘটেনি।

সেই সন্ধ্যায় একটি হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে কেউ নিজেকে উত্তরা আর্মি ক্যাম্পের সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে ইনকিলাব মঞ্চের শুক্রবারের প্রতিবাদে সেনাবাহিনীর বিরোধী বক্তব্যের এক ব্যক্তি দেখা গিয়েছিল। কলকারী জানিয়ে দেন যে এমন বিষয়বস্তু প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সেই সময়ে বাংলাদেশ টাইমসের মোবাইল জার্নালিজম সম্পাদক‑ইন‑চিফ এই ঘটনার সম্পর্কে ফেসবুক লাইভে মন্তব্য করেন এবং এটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের মধ্যবর্তী সরকারে স্বাধীন মিডিয়ার জন্য এই সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তবু এমন হস্তক্ষেপ অপ্রত্যাশিত।

মিডিয়া অফিসে হস্তক্ষেপের পর রাত ১১:৩০ টায় ফেসবুক লাইভে দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃত ২১জন কর্মী ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে অফিসে ফিরে আসছেন। একই সময়ে সাইটের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাদের মুক্তি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।

সেই রাতে ১০:৪৬ টায় উত্তরা হাজি ক্যাম্পের এক মেজর মিডিয়াকে জানান যে সাংবাদিকদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল এবং দ্রুতই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাটিকে “ছোট বিষয়, কোনো বড় সমস্যা নয়” বলে উল্লেখ করেন, তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

সেনাবাহিনীর এই ব্যাখ্যা ও প্রকাশিত ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; একদিকে মিডিয়া কর্মীরা হস্তক্ষেপকে স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে সেনা এটিকে সাধারণ আলোচনা হিসেবে উপস্থাপন করছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট হল দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। স্বাধীন মিডিয়ার ওপর এমন হস্তক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতায় প্রশ্ন তুলতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের আত্ম-সেন্সরশিপ বাড়িয়ে তুলতে পারে, ফলে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে তারা দাবি করে যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের জন্যই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে ঘটনাটির দ্রুত প্রচার ঘটেছে, যা জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। মিডিয়া সংস্থাগুলি এখন থেকে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করার সময়।

অধিকন্তু, সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সমন্বয় কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা এখনই প্রশ্নের মুখে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হস্তক্ষেপের পুনরাবৃত্তি রোধে স্পষ্ট নীতি ও প্রোটোকল তৈরি করা প্রয়োজন হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, নিকুঞ্জা অফিসে ঘটিত এই গ্রেপ্তার ও মুক্তি ঘটনা দেশের মিডিয়া পরিবেশে নতুন এক চ্যালেঞ্জের সূচনা করেছে, যা নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments