রাশিদ খান আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিয়ে টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই ম্যাচটি তার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ তিনি মাত্র চারটি উইকেট বাকি রেখে ৭০০ টি২০ উইকেটের ঐতিহাসিক সীমা অতিক্রমের পথে।
২৭ বছর বয়সী লেগ-স্পিনার রাশিদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় দশ বছর, যার মধ্যে তিনি টি২০ ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে দলকে সমর্থন করে আসছেন। তার বর্তমান উইকেট সংখ্যা ৬৯৬, যা তাকে শীর্ষস্থানীয় উইকেট-টেকার হিসেবে গড়ে তুলেছে এবং কোনো ক্রিকেটার এখনো এই সংখ্যায় পৌঁছায়নি।
প্রি-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে রাশিদ তার অনুভূতি প্রকাশ করে, “আমি ভালো আছি। মাত্র নয় বা দশ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছি, তবু শীর্ষ উইকেট-টেকার হওয়া আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি।” তিনি যোগ করেন, এই স্বপ্ন পূরণ করা তার জন্য বিশেষ গর্বের বিষয় হবে।
রাশিদ স্বীকার করেন যে তিনি নিজের উইকেট গুনে রাখেন না। “আমি কখনো আমার উইকেট গুনিনি, মিডিয়া আমাকে জানায়—৪০০, ৫০০, ৬০০—কিন্তু আমি তা নিয়ে বেশি ভাবি না। প্রতিদিন সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, দলকে ভাল পারফরম্যান্স দিতে এবং উইকেট নিতে।” তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তার কাজের প্রতি নিবেদনকে তুলে ধরে।
তিনি ৭০০ উইকেটের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সাতশো উইকেট কোনো ছোট বিষয় নয়; এ পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক সময় ও কঠোর পরিশ্রম দরকার। আমি ভাগ্যবান যে এত দূর পর্যন্ত এসেছি, এবং এই মাইলফলক অর্জন করতে পেরে আনন্দিত।” রাশিদ হালকা মেজাজে যোগ করেন, “আশা করি ৭০০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি (হাসি)।” তার এই হাস্যরসপূর্ণ মন্তব্য তার আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ।
গত সংস্করণে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল রাশিদের নেতৃত্বে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। দলটি নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন। এই সাফল্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের অবস্থানকে দৃঢ় করেছে।
এইবারের টুর্নামেন্টে দলটি একই রকম সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য রাখবে, তবে রাশিদের ব্যক্তিগত লক্ষ্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি দলকে জয়ী করতে চাই, তবে একই সঙ্গে নিজের মাইলফলক অর্জন করাও আমার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।” তার এই দ্বৈত ফোকাস দলকে উত্সাহিত করবে বলে আশা করা যায়।
চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী ম্যাচের পর আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল পরবর্তী রাউন্ডে কোন দলের মুখোমুখি হবে তা টুর্নামেন্টের শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। রাশিদের ৭০০ উইকেটের লক্ষ্য অর্জন হলে তা টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত হয়ে থাকবে।



