দিল্লি শহরের সিটি হলের একটি অনুষ্ঠানে গত রাতের সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বললেন, যদি তাদের দল জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার গঠন করে, তবে সেনাবাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
তারেকের মতে, সেনাবাহিনীর গৌরব স্বয়ং অর্জিত হতে হবে, তা কোনো বাহ্যিক চাপের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া যায় না। গৌরব বজায় রাখার দায়িত্ব পুরোপুরি সেনাবাহিনীর ওপরই নির্ভরশীল, তাই তাদেরকে নিজেদের মর্যাদা রক্ষায় সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
এই বক্তব্যটি তিনি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী এবং ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের সদস্যদের সমাবেশে প্রদান করেন। সমাবেশটি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শিকারদের স্মরণে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সংলাপের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।
তারেক জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীকে রাজনীতির প্রতি সচেতন থাকতে হবে, তবে তা তাদের কাজের সঙ্গে মিশে না যাওয়া উচিত। প্রতিটি কর্মকর্তা ও সৈন্যকে তাদের পেশাগত দায়িত্বে মনোযোগী থাকতে হবে, যাতে রাজনৈতিক চাপ তাদের কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত না করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে বা বর্তমান সময়ে বিএনপি সেনাবাহিনীর গৌরবকে ক্ষুন্ন করেনি এবং ভবিষ্যতেও তা করবে না। তার মতে, যখনই বিএনপি রাজনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালী থাকে, তখন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা পায়।
বিএনপি সরকার গঠনের শর্তে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন, তা হল বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর ঐতিহাসিক নাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর ফ্যাসিস্ট শক্তি দ্বারা বিডিআরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ক্ষুন্ন করেছিল।
তাছাড়া, ইউনিফর্মসহ সব চিহ্ন পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা তিনি অনুচিত বলে উল্লেখ করেন। তারেকের মতে, যদি জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী বিএনপি শাসন গ্রহণ করে, তবে বিডিআরের মূল নাম পুনরুদ্ধার করা হবে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি অনুভূতি শেয়ার করেন, যে বিডিআরের নাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জাতীয় গর্বের বিষয় হবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি পুনরায় জীবন্ত হবে।
তারেকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি তাদের স্বতন্ত্রতা ও গৌরব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
বিএনপি নেতার এই প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ সেনাবাহিনীর স্বায়ত্তশাসন ও ঐতিহাসিক নামের পুনঃপ্রতিষ্ঠা উভয়ই জাতীয় সংবেদনশীল বিষয়। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গঠিত হবে, তা নির্ধারণ করবে এই নীতিগুলোর বাস্তবায়ন।
সামগ্রিকভাবে, তারেকের এই বক্তব্যে সেনাবাহিনীর স্বাধীনতা, গৌরব এবং বিডিআরের ঐতিহাসিক নামের পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে, যা আগামী সময়ে দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



