জাতীয় নাগরিক দলের সদস্যসচিব এবং রংপুর‑৪ (পীরগাছা‑কাউনিয়া) আসনের ১১‑দলীয় ঐক্য প্রার্থী আখতার হোসেনকে শনিবার বিকেল প্রায় পাঁচটা ত্রিশ মিনিটে একটি অজানা মোবাইল নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিটি পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনী প্রচার‑প্রচারণা চলাকালীন ফোনে পৌঁছায়। ঘটনাটি স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার নজরে নিয়ে গিয়ে তিনি একই দিন রাত ১১টার দিকে পীরগাছা থানা-এ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন।
হুমকি প্রদানকারী কলার কোনো পরিচয় প্রকাশ না করে সরাসরি মৃত্যুর হুমকি জানায় এবং হোসেনকে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। কলটি একাধিকবার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ না করলেও, হুমকির স্বর ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে হিংসাত্মক ছিল। ফোনের নম্বরটি অজানা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেস করা কঠিন বলে প্রাথমিক তদন্তে সীমাবদ্ধতা দেখা যায়।
আখতার হোসেন শনিবার বিকেলে কিশামত গ্রামে গৃহে গৃহে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা, প্যানফ্লেট বিতরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করছিলেন। এই সময়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। হুমকি পাওয়ার পর তিনি তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটি নথিভুক্ত করেন।
পীরগাছা থানায় গৃহীত জিডি-তে হুমকির সময়, কলের বিষয়বস্তু এবং হুমকির তীব্রতা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হোসেন জিডিতে উল্লেখ করেন যে, পূর্বেও তার এবং তার দলের কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে উন্মুক্ত ও গোপনীয়ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এমন হুমকি তাদের নির্বাচনী অভিযানকে থামাতে পারে না।
হুমকির পর হোসেন মিডিয়াকে জানিয়ে দেন যে, শাপলা কলি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতাদেরও অনুরূপ হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, হুমকি প্রকাশ্যভাবে এবং গোপনে দু’ধরনেরই রূপে এসেছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে। তবুও তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা কথা দিয়ে কোনোভাবেই তাদের জয়যাত্রা বাধা দেওয়া সম্ভব নয়।
পীরগাছা থানার ওয়্যারিং অফিসার (ওসি) ই. এম. খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জিডি-র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট তথ্য রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, যদি কেউ অতিরিক্ত তথ্য বা প্রমাণ প্রদান করতে পারে তবে তা দ্রুত শেয়ার করতে।
আইনগতভাবে, অজানা নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া অপরাধমূলক হুমকি এবং গৃহহত্যার ইচ্ছা প্রকাশের শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। তাই পুলিশ ফোন নম্বর ট্রেস, কল লগ বিশ্লেষণ এবং টেলিকম অপারেটরের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়ে যাবে।
প্রাথমিক তদন্তে ফোনের সিগন্যালের উৎস নির্ণয়, কলের সময়সূচি এবং সম্ভাব্য সংযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনীয় হলে ফৌজদারি তদন্ত বিভাগ (ডিটিএ)কে অন্তর্ভুক্ত করে মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, প্রমাণ সাপেক্ষে ফাস্ট ট্র্যাক ফাইলিং বা সাধারণ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মুহূর্তে হুমকি প্রদানকারীকে সনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আপডেট পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। আখতার হোসেন তার নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং হুমকির মুখেও তার দলীয় কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নিরাপত্তা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে এই ধরনের হুমকি দমন করা এবং দায়ী ব্যক্তিকে আইনের শাসনে আনা জরুরি বলে জোর দেওয়া হয়েছে।



