বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় বললেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে বিডিআর নাম ও ইউনিফর্ম পুনরায় চালু করা হবে। তিনি এ কথা বলেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দৃঢ় আস্থার প্রতীকী ব্যানার সমন্বিত অনুষ্ঠানে।
সভা অনুষ্ঠিত হয় সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের উপস্থিতিতে, যেখানে মঞ্চের পটভূমিতে “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা” শিরোনামটি ঝলমল করছিল। এই সমাবেশটি বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিভিন্ন স্তরের প্রাক্তন সেনা কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, বিএনপি যদি ভোটে জয়লাভ করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে বিডিআরের নাম পুনরুদ্ধার এবং ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিডিআর দেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত একটি প্রতিষ্ঠান এবং তার পুনঃস্থাপন দেশের গৌরব পুনরুজ্জীবিত করবে।
এছাড়া তিনি পিলখানা সেনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দিনকে “শহীদ সেনা দিবস”, “সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস” অথবা “জাতীয় শোক দিবস” হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়ে দেন। এই দিনটি ২০০৯ সালে ঘটেছিল এবং তিনি এটিকে দেশের ইতিহাসে একটি দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান তার নিজের পরিবারিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন, তার বড়বড় দিনগুলো সেনাবাহিনীর পরিবেশে কাটে। তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি তার পিতাকে হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং বড় হয়ে দেখেছেন তার মা, খালেদা জিয়া, সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
মা খালেদা জিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নির্ভরযোগ্য প্রহরী। তিনি এক সময়ের সেনা কর্মকর্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গর্ব বাড়িয়ে তুলেছিলেন।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের পর সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে না দিয়ে তার মূল উদ্দেশ্য বজায় রাখতে হবে।
পেশাদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন, সেনাবাহিনীকে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে তবে রাজনীতিতে সম্পূর্ণভাবে মিশে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে।
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে তিনি “পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেই ঘটনার পরপরই বিরোধী শক্তি বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পরিবর্তন করে ফেলেছিল। তিনি এই পরিবর্তনকে ফ্যাসিস্ট অপশক্তির কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিএনপি সরকার গঠনের শর্তে বিডিআরের নাম পুনর্বহাল এবং ইউনিফর্ম পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করে, তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে সেনাবাহিনীর নাম ও চিহ্ন পরিবর্তন করা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না থাকলেও, তারা পূর্বে সেনাবাহিনীর স্বতন্ত্রতা রক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে।
এই ঘোষণাগুলি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে; যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে বিডিআর পুনরুদ্ধার এবং পিলখানা শোক দিবসের ঘোষণার মাধ্যমে তারা সামরিক ও মুক্তিযোদ্ধা গোষ্ঠীর সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করবে। তবে একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্রতা রক্ষার প্রশ্নও তীব্র হবে।
অবশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে রূপ নেবে কিনা এবং দেশের নিরাপত্তা নীতি ও ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনর্গঠন কীভাবে এগোবে।



