মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস আর্লি বার্কের ক্রু সদস্যরা ইরানের ইসরায়েল লক্ষ্যবস্তু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে আর্মড ফোর্সেস সার্ভিস মেডেল পেয়েছেন। এই পুরস্কারটি ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধকালে তাদের অবদানকে সম্মানিত করে।
মার্কিন নৌবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অসামান্য দক্ষতা ও কার্যকর ভূমিকা পালনকারী সকলকে এই পদক প্রদান করা হয়। পদকটি নৌবাহিনীর নীতি অনুযায়ী, মধ্য-২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়কালে এই রণতরীতে যুক্ত থাকা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য।
১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত আর্মড ফোর্সেস সার্ভিস মেডেল মূলত অ-যুদ্ধকালীন বিশেষ অবদানের স্বীকৃতির জন্য তৈরি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই পদকটি যুদ্ধবিরতি সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবদানের জন্যও প্রদান করা হচ্ছে।
গত দুই বছরে ইউএসএস আর্লি বার্ক এবং ইউএসএস কার্নিসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে এপ্রিল ২০২৪-এ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে ৮০টিরও বেশি ড্রোন এবং অন্তত ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়। এই সফলতা ইরানের আকাশীয় হুমকিকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
এরপর জুন ২০২৫-এ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা পাঁচটি ডেস্ট্রয়ারের মধ্যে আর্লি বার্ক অন্যতম ছিল। এই জাহাজগুলো ইরানের বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোধে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে, ফলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। এই অপারেশনটি অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি নির্দেশ করে।
কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পুরস্কার প্রদান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চালনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, আর্মড ফোর্সেস সার্ভিস মেডেল প্রদান নৌবাহিনীর সামরিক দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা তুলে ধরে, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘর্ষে প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, এই স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও গলফ অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে।
অধিকন্তু, ইউএসএস আর্লি বার্কের মতো জাহাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইরানের সামরিক পরিকল্পনাকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। ভবিষ্যতে মার্কিন নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তার উপস্থিতি বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি ত্বরান্বিতভাবে সনাক্ত ও নিরুৎসাহিত করা যায়।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপগুলো ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ইউএসএস আর্লি বার্কের ক্রু সদস্যদের আর্মড ফোর্সেস সার্ভিস মেডেল প্রদান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক দৃঢ়তা উভয়ই তুলে ধরেছে। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যকে পুনর্ব্যক্ত করবে।



