ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে রাঙামাটি জেলায় এক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার দুপুরে শুভলং আনসার ব্যাটালিয়ন থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে জুরাছড়ি উপজেলায় গিয়ে তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা সেবার পর মৃত ঘোষিত হন।
বিকাশ চন্দ্র দাস, রাঙামাটি জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্বে) জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরকে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব প্রদান করা হয়। জুরাছড়ি উপজেলায় সেকশন কমান্ডার হিসেবে মো. এরশাদ আলীকে পাঠানো হয়েছিল।
মো. এরশাদ আলী, ৫৭ বছর বয়সী, শুভলং আনসার ব্যাটালিয়নের সুবেদার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছিলেন।
জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। উপস্থিত চিকিৎসকগণ তৎক্ষণাৎ তাকে জরুরি সেবা প্রদান করেন, তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ডাক্তারদের মতে, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তপাতের ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মৃতদেহটি স্পিড বোটের মাধ্যমে রাঙামাটি জেলা সদর দফতরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দেহের যথাযথ সমাধি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।
জুরাছড়ি উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীহ ফারুখও জানান, মৃতদেহের স্থানান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে শেষকৃত্য সংক্রান্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।
বিকাশ চন্দ্র দাসের মতে, এরশাদ আলীর দায়িত্বকালে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া সব ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরণের বিঘ্ন ঘটবে না। নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলিও এই ঘটনার প্রতি শোক প্রকাশ করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায়।
অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনাকে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন, তবে কোনো অনুমান ছাড়া অফিসিয়াল তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হবে।
অধিকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে একটি তদন্ত দল গঠন করে, যাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ণয় করা যায়। ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পরেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে এবং সকল ভোটারকে নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



