জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান হাসনাত আবদুল্লাহ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যশোরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপি দলের বহু নেতাকর্মী এখন রাজনৈতিক চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পেতে চায়। এই বক্তব্যের পেছনে দলীয় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গতি-প্রবাহ ও আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি এ কথা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিক নির্দেশের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে জানান, চাঁদাবাজি মূলত নেতাদের আদেশে শুরু হয়, আর বাস্তবায়ন কাজটি কর্মীদের উপর নিক্ষিপ্ত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূলের অনেক কর্মী এই প্রক্রিয়ায় জড়িত নয় এবং তারা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। এ ধরনের বিভাজন দলীয় কাঠামোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। তিনি এ বিষয়টি ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বক্তা অতীতের দিকে তাকিয়ে বলেন, গত সতেরো বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রূপে নিপীড়ন, গুম হওয়া এবং প্রান্তিক অবস্থায় ধরা পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে একটি হাইব্রিড সংস্করণে পরিবর্তিত হয়ে মূল দলের কাঠামোকে প্রান্তিক করে তুলেছে। ফলে, মূল নেতাদের প্রভাব কমে গিয়ে নতুন গোষ্ঠীর হাতে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি দলীয় ঐক্য ও স্বনির্ভরতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, খালেদা জিয়া (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) এর দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বপ্নে বিশ্বাসী বেশ কিছু বিএনপি সমর্থক এখনও চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য ভোটের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের লক্ষ্য হল দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা, না যে স্বল্পমেয়াদী স্বার্থপর লেনদেনে জড়িয়ে পড়া। এ ধরনের সমর্থক গোষ্ঠীকে তিনি ভোটের সময় মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজনকে তিনটি মূল দিক হিসেবে চিত্রিত করেন। প্রথম দিকটি জুলুমের পক্ষে অবস্থান নেয়, আর দ্বিতীয় দিকটি মহিলাদের হিজাব ও জামাকাপড় খুলে দিতে চায়। তৃতীয় দিকটি ভারতের সঙ্গে দালালি ও নির্ভরশীলতা বাড়াতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এই তিনটি প্রবণতা দেশের স্বায়ত্তশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক দল স্বতন্ত্রভাবে মুক্তির পথে দাঁড়িয়ে আছে।
হাসনাত আবদুল্লাহের মতে, এখন ভোটের প্রস্তুতি চলছে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় কর্মীরা প্রতিটি গৃহে গিয়ে ভোটারদের মতামত জানাচ্ছেন এবং ১২ তারিখে ভোটের সময়সূচি সম্পর্কে জানাচ্ছেন। কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, কারণ তারা ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রভাবিত হবে বলে ভয় পাচ্ছেন। তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তা সতর্ক করেন, যদি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা অনুরূপ অনৈতিক প্রক্রিয়া আবার ফিরে আসে, তবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ব্যাঘাত ঘটবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই ধরনের লুকায়িত লেনদেন থেকে মুক্তি পেতে হবে। এ জন্য ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করে তাদের সচেতন করা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের অধিকার কেবল প্রার্থীর নয়, পুরো জনগণের।
হাসনাত আবদুল্লাহ শেষ কথায় উল্লেখ করেন, ভোটের প্রকৃত শক্তি জনগণের হাতে, এবং প্রার্থীরা কেবল সেই শক্তিকে আহ্বান করতে পারে। তিনি বলেন, ভোটারদের দরজায় দরজা গিয়ে তাদের মতামত শোনাই এবং তাদের উদ্বেগ দূর করা দরকার। এভাবে ভোটের ফলাফল সত্যিকারের জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট উন্নত হবে।
জাতীয় নাগরিক দলের এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গতিবিধি সূচিত করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। দলীয় নেতৃত্বের এই স্পষ্ট অবস্থান ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এই ধরনের প্রকাশনা রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



