ফ্রান্সের আর্থিক অপরাধ প্রসিকিউটররা ৮৬ বছর বয়সী প্রাক্তন সংস্কৃতি মন্ত্রী জ্যাক ল্যাংকে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সংযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের বিষয়বস্তু হল কর ফাঁকি থেকে প্রাপ্ত অর্থের লন্ডারিং সন্দেহ। এই পদক্ষেপটি ফ্রান্সের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ঘোষণার পরপরই নেওয়া হয়েছে।
ল্যাং ১৯৮০ থেকে ২০০০ দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফরাসি সমাজতান্ত্রিক সরকারগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং পরে শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি প্যারিসে আরব বিশ্ব ইনস্টিটিউটের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
প্রসিকিউটরদের মতে, ল্যাং এবং তার পরিবার এপস্টেইনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত ছিলেন, যার ফলে কর ফাঁকির আয় লন্ডার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ফাইলগুলোতে ল্যাংের নাম প্রায় ৭০০ বার উল্লেখ রয়েছে, যা তার সংযোগের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
এই তদন্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশ রয়েছে, যেখানে ল্যাং পরিবারের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের নথি প্রকাশিত হয়েছে। ফাইলগুলোতে ল্যাংের পরিবারকে এপস্টেইনের আর্থিক সহায়তা চাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ল্যাং এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেছেন এবং নিজের নৈতিকতা ও সুনাম রক্ষার জন্য তদন্তের ফলাফলকে স্বচ্ছতা আনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে তদন্তের মাধ্যমে তার প্রতি আনা অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ পাবে।
ল্যাংের ৬৪ বছর বয়সী কন্যা ক্যারোলিনও একই মামলায় জড়িত। তিনি সম্প্রতি ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ইউনিয়নের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা এই তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্যারোলিনের পদত্যাগের পরেও ল্যাং আরব বিশ্ব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে আসতে অস্বীকার করছেন। তার এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ তিনি বহু বছর ধরে সাংস্কৃতিক নীতি নির্ধারণে প্রভাবশালী ছিলেন।
ল্যাং টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন যে তিনি প্রায় পনেরো বছর আগে এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তবে সেই সময়ে এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি উল্লেখ করেন যে এপস্টেইনকে তিনি একজন শিল্প ও সিনেমা প্রেমিক হিসেবে চেনেন।
এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় নাবালিকাকে যৌন সেবার জন্য প্রলুব্ধ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তার অপরাধের বিবরণ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
ল্যাং এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আর্থিক সহায়তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এপস্টেইনকে উদার ও ভদ্র ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তার অপরাধ রেকর্ড যাচাই না করার কথা উল্লেখ করেন।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ল্যাংকে রবিবারের মধ্যে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছেন, যাতে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যায়। এই সাক্ষাৎকারের ফলাফল ভবিষ্যতে ল্যাংয়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
ফাইলের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে ল্যাং এপস্টেইনের কাছ থেকে তহবিল বা সুবিধা চেয়েছিলেন, যার মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি ও বিমান ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ধরনের সুবিধা তার পরিবারিক সদস্যদের জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে বলে রেকর্ডে উল্লেখ আছে।
ক্যারোলিন ল্যাং মিডিয়াপার্টকে জানিয়েছেন যে তিনি এই তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। তিনি অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ফরাসি রাজনৈতিক পরিবেশে এই মামলার প্রভাব বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদি ল্যাংকে দোষী প্রমাণিত করা হয়, তবে তার আরব বিশ্ব ইনস্টিটিউটের নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ এবং সম্ভাব্য আইনি শাস্তি মুখোমুখি হতে পারেন।



