শনি-রবিবার, বার্সেলোনা এবং মায়োরকা লা লিগার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি খেলায় ক্যাম্প নু-তে মুখোমুখি হল। বার্সেলোনা ৩-০ পার্থক্যে জয়লাভ করে লিগের শীর্ষে চার পয়েন্টের সুবিধা বাড়িয়ে দিল। এই জয় দলকে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে রাখে এবং পরের রবিবার ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
প্রথম গোলটি ২৯তম মিনিটে ঘটেছে। রাশফোর্ডের শট ব্লক হয়ে ড্যানি অলমোর কাছে পৌঁছায়, যিনি রিবাউন্ডকে রবার্ট লেভান্ডোস্কি দিকে পাঠান। লেভান্ডোস্কি ঘনিষ্ঠ এলাকায় পা দিয়ে বলটি জালে পাঠিয়ে বার্সেলোনার প্রথম স্কোর নিশ্চিত করেন। এই মুহূর্তে দলটি ধীর সূচনার পর দ্রুত গতি পায়।
খেলাটির শুরুর দিকে মায়োরকার আক্রমণকারী ভেদাত মুরিকি ব্যাক পোস্টে স্লাইড করে বলটি সাইড নেটিংয়ে পাঠায়, তবে তা গোলের বদলে পার্শ্বে গিয়ে যায়। একই সময়ে জান ভিরগিলির শট গারসিয়ার দ্বারা রোধ হয়, যার ফলে বার্সেলোনার গোলরক্ষক প্রথমবারের মতো ব্যাটারির মতো কাজ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল গোলের সুযোগ পায়। রাশফোর্ডের ফ্রি-কিকের পরে জুলস কুন্ডে বলটি রিবাউন্ড করে ইয়ামালের পথে পাঠায়, তবে রোমানের সেভের পরে তিনি সরাসরি শট মিস করেন। কিছু মুহূর্ত পর, ইয়ামাল দূর থেকে শক্তিশালী শট মারেন, যা রোমানের কাছে পৌঁছায় না এবং গোলের নেটকে ছুঁয়ে যায়। এভাবে বার্সেলোনা দ্বিতীয় গোলের সুবিধা পায়।
শেষে, মার্ক বর্নাল দলের তৃতীয় গোলের দায়িত্ব নেন। তিনি মায়োরকার রক্ষণকে পেরিয়ে গিয়ে শটের জন্য সঠিক কোণ তৈরি করেন, এবং একটি ডিফ্লেকশনের সাহায্যে বলটি জালে গিয়ে স্কোর বাড়ায়। বর্নালের এই গোলটি ম্যাচের সমাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বার্সেলোনার জয়কে নিশ্চিত করে।
মায়োরকার মার্ক কাসাডোও একটি ডিফ্লেক্টেড শট দিয়ে ক্রসবারে আঘাত করেন, তবে বলটি ক্রসবারে আটকে যায়। রাশফোর্ডের বিপজ্জনক ফ্রি-কিকটি লিও রোমানের দেহে আঘাত করে বারের দিকে গিয়ে থেমে যায়। এই সুযোগগুলো মায়োরকার জন্য যথেষ্ট না হয়ে শেষ হয়।
বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গারসিয়া পুরো ম্যাচে শূন্য গোল রক্ষা করেন। তিনি অ্যান্টোনিও সানচেজের শটকে চমৎকার সেভ দিয়ে বাধা দেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্লিন শিট বজায় রাখেন। গারসিয়ার এই পারফরম্যান্স মায়োরকার আক্রমণকে সীমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ম্যাচের শেষে বার্সেলোনা তিনটি গোলের সঙ্গে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল, আর মায়োরকা কোনো গোল করতে পারেনি। লেভান্ডোস্কি, ইয়ামাল এবং বর্নাল প্রত্যেকেই স্কোরবোর্ডে নাম লিখে দলকে লিগের শীর্ষে রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। দলটি আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় দিকেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
বার্সেলোনার পরবর্তী ম্যাচটি রবিবার ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে হবে, যেখানে দলটি শীর্ষে থাকা অবস্থান বজায় রাখতে চায়। মায়োরকা পরের সপ্তাহে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, তবে তার সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
সেই দিন লা লিগা রায়ো ভ্যালেকানো এবং রিয়াল ওভিয়েডোর মধ্যে ম্যাচটি ভ্যালকাস স্টেডিয়ামের মাঠের অবস্থা খারাপ হওয়ায় স্থগিত করে। এছাড়াও, সেভিলার গিরোনার সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচটি আবহাওয়ার কারণে শনিবারের ১৭:৩০ GMT সময় থেকে রবিবারে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো লিগের সামগ্রিক সময়সূচিতে প্রভাব ফেলবে।
বার্সেলোনার এই জয় তাদের শীর্ষে থাকা অবস্থানকে শক্তিশালী করে এবং রিয়াল মাদ্রিদ থেকে দূরত্ব বাড়ায়। দলটি এখন চার পয়েন্টের সুবিধা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামবে।
ম্যাচের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দলই নিজেদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করবে, তবে বর্তমান ফলাফল বার্সেলোনার জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। লা লিগার শীর্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো তীব্র, এবং প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।



