গোপালগঞ্জের গোবরা মধ্যপাড়া এলাকায় ৩ বছর অর্ধেক বয়সী মেয়ে ফারিয়ার দেহ পাওয়া যাওয়ার পর, তার মা সেটু বেগমকে আজ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দেহটি ১৭ দিন পর একটি বাড়ির ট্রাঙ্কে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ পুলিশ জানায়, ফারিয়া গোবরা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তার দেহ ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। দেহটি উদ্ধার করার পর তা গোপালগঞ্জ ২৫০-বেড জেনারেল হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয়েছে অটোপসির জন্য।
সন্দেহভাজন সেটু বেগম, ২৫ বছর বয়সী, গোবরা মধ্যপাড়া এলাকায় শাশুড়ির বাড়িতে তার মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তার স্বামী রুবেল শেখ, কাতারে কাজ করেন, এ তথ্য তার মা পারভিন আক্তার জানান।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত সুপারইন্টেন্ডেন্ট মুহাম্মদ সারওয়ার হোসেনের মতে, তদন্তের সময় সেটু বেগম স্বীকার করেন যে তিনি ২১ জানুয়ারি তার মেয়ের প্রাণহানি করেছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন।
সেটু বেগমের স্বীকারোক্তি অনুসারে, তিনি এবং তার প্রেমিক মেয়েটিকে হত্যা করার পর দেহটি ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন এবং পরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। দেহটি ট্রাঙ্কে আটকে থাকা অবস্থায় ১৭ দিন পরই পাওয়া গিয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেহটি পাওয়া যাওয়ার পর গোপালগঞ্জের ২৫০-বেড জেনারেল হাসপাতালের মরগে নিয়ে গিয়ে অটোপসির জন্য পাঠানো হয়েছে। অটোপসির ফলাফল জানার জন্য এখনো কোনো প্রকাশনা করা হয়নি।
পুলিশের মতে, দেহের অবস্থান ও সময় নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে। একই সঙ্গে, মামলার সাথে সম্পর্কিত প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলমান।
সেটু বেগমের পরিবারিক পটভূমি সম্পর্কে জানা যায়, তিনি শাশুড়ির বাড়িতে তার মেয়ের সঙ্গে থাকতেন এবং স্বামী কাতারে কাজের জন্য বিদেশে ছিলেন। তার মা পারভিন আক্তার ঘটনাস্থল সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রদান করেন।
গোপালগঞ্জের পুলিশ এখনো মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, প্রেমিকের পরিচয় ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে।
অধিক তথ্যের জন্য গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত সুপারইন্টেন্ডেন্ট মুহাম্মদ সারওয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি জানান, মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গোপালগঞ্জ পুলিশ ইতিমধ্যে মামলাটির জন্য অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেহের অটোপসির ফলাফল এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোপালগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিবারকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।



