জাতীয় নাগরিক দল (JNP) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ সমাবেশে সরকারকে হাদি হত্যার মামলায় অগ্রগতি না জানিয়ে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ এক সপ্তাহ ধরে সরকারকে আপডেট চেয়েছে, কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পাটওয়ারী বলেন, সরকার দেখার ভান, শোনার ভান করে জনগণকে শুধু মুখোশ দেখাচ্ছে।
সমাবেশে ‘জুলাই ঐক্য’ ব্যানার তলে উপস্থিত ভিড়ের সামনে তিনি সরকারকে ‘লোক দেখানো জানাযা ছাড়া আর কিছু করেনি’ বলে সমালোচনা করেন। পাটওয়ারী দাবি করেন, সরকার নিরাপত্তা ও ষড়যন্ত্রের দায়িত্ব এড়িয়ে নাগরিকদের কিলিং জোনে ঠেলে দিচ্ছে।
পাটওয়ারীর মতে, পুলিশি হস্তক্ষেপের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর বুট দিয়ে প্রতিবাদকারীদের বুকে লাথি মারার ঘটনা ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাবের, জুমা, রনিসহ প্রায় ত্রিশজন আহত হয়েছে। এই আঘাতের সংখ্যা সরকার ও প্রশাসনের প্রতি তার অবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তৎপরতার ফল, যা তিনি ‘মহল নির্বাচন বানচালের জন্য’ চালু হয়েছে বলে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, হাদি হত্যার মামলায় অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ থাকতে পারে।
রাজনৈতিক দিক থেকে পাটওয়ারী সরকারকে তারেক রহমানের প্রতি ভয় পেয়ে দ্বিমুখী আক্রমণ চালানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকার তারেককে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে দেখলেও প্রকৃত বাঘ ইনকিলাব মঞ্চের ভাইদের মধ্যে।
পাটওয়ারী ড. ইউনূসকে সরাসরি সম্বোধন করে বলছেন, তিনি লন্ডনে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভয় পেয়েছিলেন এবং সেই ভয়কে রাজনৈতিক চুক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি ড. ইউনূসকে আশ্বাস দেন, ভয় আর কোনো সিদ্ধান্তকে বাধা দেবে না।
নির্বাচন কমিশন ও ছাত্রদল সম্পর্কেও পাটওয়ারীর মন্তব্য আছে। তিনি জানান, ছাত্রদলকে ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের সামনে মব করে ‘সিলেকশন’ নামে নির্বাচনের আড়ালে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তারেক রহমানকে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে আনা হচ্ছে।
পাটওয়ারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি কঠোর সতর্কতা জানিয়ে বলেন, যদি কোনো সন্ত্রাসী মারা যায়, তার কবরের ওপর ‘চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী’ লেবেল করা হবে, যেমন মীরজাফরের কবরের ওপর লেখা আছে।
এই সমাবেশে পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে তীব্র সাড়া দেখা যায়। তিনি সরকারকে হাদি হত্যার মামলায় দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচনের দাবি করেন।
পাটওয়ারীর মন্তব্যের পর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সরকারকে জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়াকে বাধা না দিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, হাদি হত্যার মামলায় অগ্রগতি না হওয়া এবং পুলিশি হিংসা উভয়ই দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলছে।
জাতীয় নাগরিক দল (JNP) নেতার এই কঠোর নিন্দা এবং সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে তদন্তের দায়িত্ব নিতে এবং হাদি হত্যার মামলায় স্বচ্ছতা আনার জন্য চাপ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



