আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের নিরাপত্তা জোরদার করতে নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। শনিবার নৌবাহিনীর মোতায়েনকৃত কন্টিনজেন্ট দুটি ভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
ভোলা জেলায় দনিয়া ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করে। অনুসন্ধানের সময় কোনো বিস্ফোরক বা বড় পরিমাণ মাদক পাওয়া যায়নি, তবে অস্ত্র সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
মহেশখালি দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়নের পানের ছড়া এলাকায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় দুইটি দেশীয় এক নলা বন্দুক, একটি তাজা কার্তুজ এবং ছয়টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই অস্ত্রগুলো স্থানীয় অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয় এবং পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তারা স্থানীয় জেলায় দায়ের হবে এবং আদালতে উপস্থিত হবে। তদন্তকারী দল সংগ্রহ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে।
অধিকন্তু, নৌবাহিনী নির্বাচনী সময়ে সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে নিয়মিত টহল চালিয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় নৌবাহিনীর ৫,০০০ের বেশি নৌসদস্য মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই কর্মসূচি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
নৌবাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও পুলিশও সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে। উভয় সংস্থা একত্রে তথ্য শেয়ার করে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সন্দেহজনক কার্যকলাপ দমন করছে। এই সমন্বয় নির্বাচনের সময় জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও নদী পারাপার এলাকায় অতিরিক্ত নৌবাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ও অবৈধ সামগ্রী প্রবেশ রোধে লক্ষ্যভিত্তিক।
অবশেষে, নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, নৌবাহিনী নিরাপত্তা বজায় রাখতে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।



