জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগে মাত্র চার দিন বাকি, ভোটারদের ভোটদানস্থল সম্পর্কে জানার জন্য নির্বাচন কমিশন নতুন সেবা চালু করেছে। হটলাইন ১০৫, এসএমএস, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের পোলিং সেন্টার, দূরত্ব ও মানচিত্রসহ বিস্তারিত তথ্য পেতে পারবেন।
হটলাইন ১০৫ ফেব্রুয়ারি ৮ তারিখ থেকে সক্রিয় হয়েছে এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করবে। ভোটাররা এই নম্বরে কল করে অথবা একই নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে তাদের ভোটার নম্বর ও পোলিং সেন্টারের ঠিকানা জানতে পারবেন।
স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপটি নভেম্বর ১২, ২০২৩ তারিখে সরকারীভাবে উদ্বোধন করা হয় এবং গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় উপলব্ধ। অ্যাপের প্রধান ফিচার হল ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মতারিখ প্রবেশ করিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পোলিং সেন্টার, ঠিকানা, ভোটার নম্বর ও ভোটের সিরিয়াল নম্বর দেখানো।
অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা, প্রার্থীর সংখ্যা, রাজনৈতিক দলের নাম, সিটের সংখ্যা, ভোটার ও প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স, এবং প্রার্থীর শপথপত্র সম্পর্কিত তথ্যও পেতে পারেন। এছাড়াও ভোটের ফলাফল ও অন্যান্য নির্বাচনী পরিসংখ্যান অ্যাপেই প্রকাশিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ecs.gov.bd-তে একই ধরনের তথ্য সরবরাহ করা হয়। কোনো ব্রাউজার থেকে সাইটে প্রবেশ করে ভোটাররা তাদের ভোটার আইডি ও পোলিং সেন্টারের বিস্তারিত দেখতে পারেন। সাইটটি ডেস্কটপ ও মোবাইল উভয়ই সমর্থন করে, ফলে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যেকোনো সময় তথ্য পাওয়া সম্ভব।
হটলাইন, এসএমএস ও অ্যাপের সমন্বিত ব্যবহার ভোটারদের জন্য তথ্যের প্রাপ্যতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় বাস করা মানুষদের জন্য ফোন ও এসএমএসের মাধ্যমে দ্রুত উত্তর পাওয়া সহজ হবে। এতে ভোটারদের ভোটদানস্থল সম্পর্কে ভুল ধারণা কমে যাবে এবং ভোটের সময়সীমা মেনে চলতে সহায়তা করবে।
অ্যাপের ব্যবহারিকতা বাড়াতে সরকার বাংলা ও ইংরেজি উভয় সংস্করণে সেবা প্রদান করেছে। ফলে তরুণ ভোটার ও বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকরাও সহজে তথ্য পেতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করেছে যে হটলাইন ও এসএমএস সেবা কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, তবে জরুরি প্রশ্নের জন্য স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত উত্তর দেওয়া হবে। এই সময়সীমা ভোটারদের কাজের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
অ্যাপের মাধ্যমে প্রার্থীর তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটাররা প্রার্থীর শপথপত্র, অপরাধমূলক রেকর্ড এবং আর্থিক সম্পদের বিবরণ অ্যাপেই দেখতে পারবেন, যা ভোটার সচেতনতা বাড়াবে।
ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপের ডেটাবেসে মোট নিবন্ধিত ভোটার, পার্টির সংখ্যা, সিটের বণ্টন ও ভোটার বয়সের পরিসীমা ইত্যাদি বিশদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারণা কৌশল নির্ধারণ করতে পারবে।
সামগ্রিকভাবে, হটলাইন, এসএমএস, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের সমন্বিত সেবা ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে। নির্বাচনের পূর্বে এই সেবাগুলোর ব্যবহার বাড়লে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কমে ভোটের অংশগ্রহণ হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন এই সেবা চালু করার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছে। ভোটারদের সহজে তথ্য পাওয়া এবং ভোটের সঠিক স্থান নির্ধারণের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে আরও বৈধ ও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।



