নগবন্ধমের নির্মাতারা রিশভ শাওনি’কে আফগান সুলতান আবদালি চরিত্রে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছেন। ছবিটি ১৭৫০ সালের ঐতিহাসিক পটভূমিতে গড়ে উঠবে এবং শিবরাত্রির সঙ্গে ১৫ তারিখে টিজার প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালক অভিষেক নামা, প্রধান চরিত্রে বিরাট কার্না, এবং গ্রীষ্মের মধ্যে প্যান-ইন্ডিয়া মুক্তি লক্ষ্য। ছবির মূল থিম হল আবদালির ভারত আক্রমণ ও হিমালয়ে লুকিয়ে থাকা পৌরাণিক নাগবন্ধমের অনুসন্ধান।
অভিষেক নামা পরিচালিত এই মিথিক্যাল অ্যাকশন নাটকে রিশভ শাওনি, সম্প্রতি “ফাইটার” ছবিতে দেখা গিয়েছিলেন, এখন আফগান শাসক আবদালি হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রতিপক্ষের ভূমিকা গ্রহণ করছেন। রিশভের চরিত্রকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সম্পদের তৃষ্ণা দ্বারা চালিত করা হয়েছে, এবং গল্পের মোড়ে তিনি নাগবন্ধমের সন্ধানে হিমালয়ের কঠিন ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। ছবির কাহিনী ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে কল্পনাপ্রসূত উপাদান মিশিয়ে একটি রোমাঞ্চকর যাত্রা গড়ে তুলবে।
প্রকাশিত পোস্টারে রিশভ শাওনি যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে তলোয়ারধারী অবস্থায় দেখা যায়। তার চারপাশে সবুজ যুদ্ধ পতাকা বহনকারী সৈন্যদল, ধনুকধারী তীরন্দাজ, যুদ্ধহাতি এবং তুষারময় ভূমি একত্রে দৃশ্যকে মহাকাব্যিক করে তুলেছে। মেঘলা আকাশ, ঝড়ের গর্জন এবং ঘনিষ্ঠভাবে ঘুরে বেড়ানো নেকড়ে চরিত্রের অশুভ পরিবেশকে আরও জোরদার করেছে। এই ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো আবদালির ভয়ঙ্কর ও শক্তিশালী স্বভাবকে দৃশ্যমান করে তুলেছে।
দর্শকরা পোস্টার থেকে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন যে ছবিটি বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধদৃশ্য ও ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে গড়ে উঠবে। রিশভ শাওনি নিজে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার নতুন চরিত্রের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে আবদালি চরিত্রটি তার জন্য চ্যালেঞ্জিং এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জটিলতা ও উদ্দেশ্যকে সত্যিকারের উপস্থাপন করা তার লক্ষ্য।
পরিচালক অভিষেক নামা রিশভের অভিনয়কে চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, রিশভের গভীরতা ও তীব্রতা ছবির মূল আকর্ষণকে শক্তিশালী করবে। এই মন্তব্যগুলো চলচ্চিত্রের গুণগত মানের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে।
নগবন্ধমে নারীর প্রধান ভূমিকায় নাভা নতেশ ও ইস্বর্যা মেনন অভিনয় করছেন। দুজনই ঐতিহাসিক কাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নারী চরিত্রে শক্তিশালী উপস্থিতি রাখবেন। পাশাপাশি জাগাপতি বাবু, জয়প্রকাশ, মুরালি শর্মা ও বি.এস. অবিনাশ সহ অন্যান্য অভিজ্ঞ অভিনেতা সমর্থনকারী ভূমিকায় অংশ নেবেন। তাদের সমন্বয়ে ছবির কাস্টকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
চিত্রের প্রযুক্তিগত দিকেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধদৃশ্যের জন্য বিশাল সেট, হিমালয়ের তুষারময় পরিবেশের জন্য ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং ঐতিহাসিক পোশাকের সঠিক পুনর্নির্মাণে প্রচুর গবেষণা করা হয়েছে। সাউন্ড ডিজাইন ও সঙ্গীতও সময়ের সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টিজারটি ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকাশিত হবে, যা দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিজারটি সংক্ষিপ্ত হলেও ছবির মহাকাব্যিক স্কেল ও রিশভের তীব্র অভিনয়কে তুলে ধরবে। শিবরাত্রির উৎসবমুখর পরিবেশের সঙ্গে টিজারের প্রকাশ একটি সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি করবে।
নগবন্ধমের মুক্তি গ্রীষ্মে প্যান-ইন্ডিয়া স্কেলে পরিকল্পিত, যা বিভিন্ন ভাষায় ডাব করা হবে। চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক নাটক ও অ্যাকশন প্রেমিকদের পাশাপাশি তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে চায়। মুক্তির আগে বিভিন্ন শহরে প্রি-শো ও মিডিয়া ইভেন্টের আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকাশিত পোস্টার ও টিজার থেকে স্পষ্ট যে ছবিটি ঐতিহাসিক কল্পকাহিনীর সঙ্গে আধুনিক সিনেমাটিক প্রযুক্তি মিশিয়ে একটি নতুন ধাঁচের অভিজ্ঞতা দিতে চায়। রিশভ শাওনি, বিরাট কার্না, নাভা নতেশ ও ইস্বর্যা মেননের সমন্বয়ে এই প্রকল্পটি বড় পর্দায় নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে আসবে।
চলচ্চিত্রের গল্পে নাগবন্ধমের পৌরাণিক গুণাবলি ও হিমালয়ের কঠিন ভূদৃশ্যকে একত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। রিশভের আবদালি চরিত্রের গভীরতা ও জটিলতা ছবির মূল আকর্ষণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সর্বশেষে, নগবন্ধমের নির্মাতারা দর্শকদেরকে ঐতিহাসিক কল্পনা, মহাকাব্যিক যুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ছবির মুক্তি ও টিজার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তারিত জানার জন্য অফিসিয়াল চ্যানেলগুলোতে নজর রাখুন।



