18.1 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজাপান‑বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ চুক্তি রেডিমেড গার্মেন্ট শিল্পে বিশাল সম্ভাবনা

জাপান‑বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ চুক্তি রেডিমেড গার্মেন্ট শিল্পে বিশাল সম্ভাবনা

আজ জাপান ও বাংলাদেশে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তা বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যের প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত, যা দীর্ঘমেয়াদী পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানের সরকারী সহায়তা ও অব্যাহত সহযোগিতার জন্য গার্মেন্টস শিল্পের সকল অংশীদার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। জাপান, যা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার, সরকারি উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো, শিল্প বিস্তার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশের কম উন্নত দেশ (LDC) থেকে স্নাতক হওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমেয় বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে, জাপান‑বাংলাদেশ EPA কৌশলগতভাবে সময়োপযোগী, যা রেডিমেড গার্মেন্টসের রপ্তানি বাজারকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার সম্ভাবনা রাখে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চুক্তি বিশেষত গার্মেন্টস রপ্তানির জন্য বাজারের প্রবেশদ্বারকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করবে, কারণ জাপান বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানির প্রধান গন্তব্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১.৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গার্মেন্টস রপ্তানি করেছে, যেখানে জাপানের মোট বিশ্বব্যাপী আমদানি প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস আমদানিকারক হিসেবে জাপান, যুক্তরাষ্ট্রের পরেই শীর্ষে রয়েছে, তবে বর্তমানে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানির মাত্র প্রায় ৩ শতাংশই জাপানে যায়। এই অনুপাত বাড়িয়ে দেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করার জন্য EPA একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানি ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে জাপানের বাজার শেয়ারকে কমপক্ষে ১০ শতাংশে বাড়ানো কৌশলগত উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। EPA কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাপানের মানদণ্ড ও গ্রাহক পছন্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে।

চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গার্মেন্টস শিল্পের উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত দায়িত্ব এবং শ্রম নীতি মেনে চলা জরুরি হবে। জাপানের বাজারে প্রবেশের জন্য পণ্যের গুণগত মান, ডিজাইন ও সময়মতো সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে শিল্পের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা উন্নয়ন অপরিহার্য।

EPA এর ফলে প্রত্যাশিত সুবিধাগুলোর মধ্যে জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, কাস্টমস প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং বাণিজ্যিক শুল্কে হ্রাস অন্তর্ভুক্ত। এই সুবিধাগুলো গার্মেন্টস সেক্টরের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

সারসংক্ষেপে, জাপান‑বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের জন্য একটি নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। বাজার প্রবেশের শর্তগুলো উন্নত করা, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো দেশের রপ্তানি কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং LDC স্নাতকের পথে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments