আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন রশিদ খান ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের এক দিন আগে দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি দলকে শক্তিশালী মানসিকতা ও উচ্চমানের ক্রিকেট খেলতে জোর দিয়েছেন, ফলাফলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে।
রশিদ খান চেন্নাইতে বহুবার গিয়েছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে তার টামিলের কিছু শব্দ ভাগ করে নেন। শেষবার তিনি চেন্নাইতে ছিলেন দুই বছরেরও বেশি আগে, যখন আফগান দল ম.এ. চিদম্বরাম স্টেডিয়ামে ভিড়ের সমর্থন পেয়ে ল্যাপ অফ অনার সম্পন্ন করেছিল।
সেই সফরে দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম জয় অর্জন করেছিল, যা তখনই একটি চমকপ্রদ ফলাফল হিসেবে ধরা পড়ে। এই জয় আফগান ক্রিকেটকে এশিয়ার শীর্ষ দলে স্থান পেতে সক্ষম করেছে বলে বিবেচিত হয়।
তবে সেই উল্লাসের পরই দলকে মুম্বাইতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে তারা দ্রুত আউট হয়ে যায়। এই পরাজয় সত্ত্বেও দলটি তার ক্ষমতা প্রমাণের জন্য পরবর্তী সুযোগের দিকে এগিয়ে যায়।
এক বছরের কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তান দল ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছায়, যা তাদের ধারাবাহিক উন্নতির স্পষ্ট চিহ্ন। এই সাফল্য দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসে।
২০২৬ সালের প্রধান টুর্নামেন্টে আফগান দলকে আর আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হবে না; তাদের ক্রমবর্ধমান মর্যাদা এবং যুব দলগুলোর ধারাবাহিক আন্ডার-১৯ বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স এই পরিবর্তনকে সমর্থন করে।
রশিদ খান ক্যাপ্টেন হিসেবে জোর দেন যে, দল কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে না। ২০২৪ বিশ্বকাপের আগে তিনি বলেছিলেন, “আমরা সেমিফাইনাল পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখিনি; বরং ভাল ক্রিকেট খেলতে, নিজের শক্তি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে কঠিন করে তুলতে এবং উন্নতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে চাই।”
এখনও একই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপেও আমরা ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করি না; গুরুত্বপূর্ণ হল আমাদের শক্তি, প্রচেষ্টা এবং শারীরিক ভাষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা। জয় হোক বা পরাজয়, এই মানসিকতা আমাদের সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়।”
দলটি আগামীকাল নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, যা তাদের প্রস্তুতির শেষ পরীক্ষা হবে। রশিদ খান ও তার সহকর্মীরা এই ম্যাচকে দলের সামগ্রিক শক্তি ও মনোভাব যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
আফগানিস্তান ক্রিকেটের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধারাবাহিক উন্নতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



