19.8 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের আলপি আক্তার জয়লাভে সেরা খেলোয়াড় ও শীর্ষ গোলদাতা পুরস্কার

বাংলাদেশের আলপি আক্তার জয়লাভে সেরা খেলোয়াড় ও শীর্ষ গোলদাতা পুরস্কার

পোখারা, নেপাল – ২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতীয় দল ৪-০ গোলে বাংলাদেশকে পরাজিত করে, ফলে লাল-সবুজের মেয়েরা রানার্স‑আপ হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দুটোই বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড আলপি আক্তারকে প্রদান করা হয়।

এই টুর্নামেন্টে আটটি দল একত্রিত হয়ে গ্রুপ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, আর বাংলাদেশ গ্রুপে ধারাবাহিক জয়লাভের মাধ্যমে অগ্রসর হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছায়। সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হয়ে আলপি একক হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে দলকে ৩-১ জয় এনে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক গোলসংখ্যা ১৮, যার মধ্যে আলপি একাই ৭টি গোলের দায়িত্বে ছিলেন। তার গোলের মধ্যে ভুটান ও নেপালের বিপক্ষে দু’টি হ্যাটট্রিক অন্তর্ভুক্ত, যা টুর্নামেন্টের গতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হ্যাটট্রিকের পরিসংখ্যান টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্কোরার তালিকায় তাকে অগ্রভাগে রাখে।

ফাইনালে আলপির গোল না হলেও, তার পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স বিচারক ও দর্শকদের নজর কেড়েছে। ভারতীয় দলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ৪-০ পরাজয়ের পরেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা অর্জন করে। এই দ্বৈত স্বীকৃতি আলপির ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার আলপির হাতে সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি ও গোল্ডেন বুট উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি, সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন মঞ্চে গর্বের সঙ্গে আলপিকে অভিনন্দন জানান এবং দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

আলপির এই অর্জন ২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টের স্মরণীয় মুহূর্তের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেখানে সাগরিকা নামের খেলোয়াড় চারটি গোলের মাধ্যমে একই সঙ্গে শীর্ষ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন। দু’বারের এই দ্বৈত স্বীকৃতি বাংলাদেশি নারীর ফুটবলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

টুর্নামেন্টের সমাপ্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশি দল এখনো প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা যায়। আলপির ব্যক্তিগত সাফল্য দলীয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।

সফলতা অর্জনের পর, বাংলাদেশি ফুটবল সংস্থা টুর্নামেন্টের পর্যালোচনা সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। এই প্রক্রিয়ায় আলপির অভিজ্ঞতা ও গেম-ইনসাইটকে গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

আলপির পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কোচিং স্টাফ দলকে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে ফাইনালে গোলের সুযোগ বাড়ে। এছাড়া, প্রতিপক্ষের শক্তিশালী রক্ষণে মোকাবিলার জন্য ডিফেন্সের সমন্বয়ও জোরদার করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, এই টুর্নামেন্টে আলপির দ্বৈত পুরস্কার বাংলাদেশি নারীর ফুটবলের উত্থানকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে। তার সাফল্য তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা এবং দেশের ফুটবল কাঠামোর উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments