বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী সমিতি ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিনগুলোতে, রাজধানীসহ দেশের সব শপিং মল ও সাধারণ দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ভোটারদের ভোট প্রয়োগে সুবিধা প্রদান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সমিতি জরুরি পণ্যের দোকানগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে বাদ রাখবে, যাতে মৌলিক চাহিদা পূরণে কোনো বাধা না থাকে।
সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদের মতে, জরুরি পণ্যের দোকানগুলো নির্বাচনের দিনগুলোতে খোলা থাকবে এবং ভোটারদের নিজ নিজ এলাকার মধ্যে ভোট দিতে পারলে তারা স্বেচ্ছায় সেবা চালিয়ে যেতে পারবেন। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী অন্য এলাকার বাসিন্দা, তাই ভোটের দিনগুলোতে তাদের নিজ এলাকার ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সমিতি সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সমিতির এই পদক্ষেপকে কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সমর্থন করেছে, কারণ তারা ভোটারদের ভোটদান সহজতর করতে চায়, তবে অন্যদিকে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে দুই দিনের বন্ধের ফলে আয় হ্রাস পাবে।
ইলেকশন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৭৯টি নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে, ভোটকক্ষ (বুথ) সংখ্যা ২,৪৭,৪৮২টি, যা গড়ে প্রতি ৩,০০০ ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্রের সমান। এই পরিসংখ্যান ভোটারদের সহজে ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত, যাতে দীর্ঘ দূরত্বে যাত্রা করতে না হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের মোট সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, এবং হিজড়া ভোটার ১,২৩২ জন। এই বিস্তৃত ভোটার তালিকা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যাপকতা ও বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। ভোটার নিবন্ধনের এই বিশাল সংখ্যা নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বশীলতা বাড়িয়ে তুলবে।
দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে কিছু শহরের বাজারে সাময়িক শূন্যতা দেখা দিতে পারে, তবে জরুরি পণ্যের দোকানগুলো চালু থাকবে, যা গ্রাহকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। বাজারের কিছু অংশে বিক্রেতারা বিক্রয় হ্রাসের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, তারা স্বীকার করেছে যে ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের বাণিজ্যিক বন্ধের ব্যবস্থা ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করবে এবং ভোটার টার্নআউট বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক ক্ষতি পূরণের জন্য সরকারকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করতে হতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, সরকার ও বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রের যথাযথ বিতরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার মূল চাবিকাঠি। সমিতির এই পদক্ষেপকে একধরনের সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা ভোটারদের জন্য স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ভোটের দিনগুলোতে ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রান্সপোর্ট সুবিধা এবং তথ্য প্রচার চালু থাকবে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সংস্কারের ভিত্তি গড়ে তুলবে। সমিতি আশা প্রকাশ করেছে যে, দুই দিনের বন্ধের পর বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।



