প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বিবিসি রেডিও ৪-এ স্টারমারকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মুখে গুরুতর অবস্থায় বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রম দলকে এখন এমন এক নেতার প্রয়োজন যার নৈতিকতা দৃঢ় এবং দেশের স্বার্থে কাজ করতে ইচ্ছুক।
ব্রাউন স্টারমারকে সততার মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি ম্যান্ডেলসনের দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতা ভোগ করেছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, স্টারমার হয়তো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে দেরি করেছেন, তবে এখনই সঠিক কাজ করা তার দায়িত্ব।
পুলিশ সম্প্রতি পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত দুইটি বাড়ি অনুসন্ধান শেষ করেছে। এই অনুসন্ধানটি শুরু হয়েছিল যখন সূত্রে উঠে আসে যে ম্যান্ডেলসন সরকারী সংবেদনশীল তথ্য জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে হস্তান্তর করে থাকতে পারেন। এপস্টেইন ছিলেন দণ্ডিত যৌন অপরাধী, যার সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের যোগাযোগের ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
ম্যান্ডেলসন এই অভিযোগের কোনো মন্তব্য করেননি, এবং বিবিসি জানায় যে তিনি নিজেকে অপরাধমূলক কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত না বলে দাবি করছেন। তিনি আর্থিক স্বার্থের জন্য কোনো তথ্য শেয়ার করেননি, এটাই তার অবস্থান।
সাম্প্রতিক এপস্টেইন ফাইলের ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর, যখন শ্রম দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনকে ঘন্টার পর ঘন্টা আপডেট পাঠিয়েছিলেন। এই তথ্যগুলো বাজারে সংবেদনশীল প্রভাব ফেলতে পারত বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
ব্রাউন ম্যান্ডেলসনের কাজকে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, এমন তথ্যের লিকের ফলে ব্রিটেনের মুদ্রা ও বাণিজ্যিক পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং সম্ভাব্য বিশাল আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
ব্রাউন এই ঘটনার পর নিজেকে শক, দুঃখ, রাগ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং হতাশা অনুভব করছেন বলে প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনার ফলে দেশের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্টারমারের জন্য ব্রাউন আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি আগামী কয়েক মাসে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুরো ব্যবস্থা পরিষ্কার করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্টারমার যদি সঠিকভাবে কাজ করেন, তবে শ্রম দলের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, স্টারমারের এই পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা শ্রম দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা ও জনমতকে প্রভাবিত করবে। যদি তিনি স্ক্যান্ডালটি সফলভাবে সমাধান করতে পারেন, তবে শ্রম দল পরবর্তী নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসতে পারে; অন্যথায়, দলের ভিতরে ও বাহিরে চাপ বাড়তে পারে।



