ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি – কেন্দ্রীয় নীতি সংলাপ (CPD) কর্তৃক পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ভোটারদের ৭৬ শতাংশের বেশি উন্নয়নকে সড়ক‑সেতু নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেন। জরিপটি ১,২০০ ভোটার এবং ৪৫০ রাজনৈতিক প্রার্থীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে করা হয়। ফলাফলগুলো আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়।
এই সমীক্ষা দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং ভোটারদের বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষার স্তর ও বাসস্থানের ধরণ অনুযায়ী সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রশ্নাবলীর মধ্যে উন্নয়নের মূল সূচক হিসেবে কী কী বিবেচিত হয়, তা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করা হয়।
মোটামুটি ৭৬.৭ শতাংশ উত্তরদাতা সড়ক ও সেতু নির্মাণকে উন্নয়নের প্রধান চিহ্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সময়ে ৭৭.১ শতাংশ ভোটার কর্মসংস্থানকে উন্নয়নের অপরিহার্য উপাদান বলে উল্লেখ করেন। এই দুইটি সূচকই জনমত গঠনে সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থানকে উন্নয়নের মূল দিক হিসেবে দেখা ভোটারদের সংখ্যা প্রায় সমানভাবে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিতরণ হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নগর উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হলে উন্নয়ন প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়িত হবে, এই ধারণা প্রাধান্য পেয়েছে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে CPD-এর উচ্চপদস্থ গবেষক হেলেন মাশিয়াত প্রোটি উল্লেখ করেন, দেশের বেশিরভাগ ভোটারই সবুজ সমাজ গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, সড়ক‑সেতু ও কর্মসংস্থানকে একমাত্র উন্নয়নের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত হতে পারে। এই একমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
CPD-এর মতে, উন্নয়নের আলোচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও জীবনমানের মতো সূচকগুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানকে বাদ না দিয়ে, এই ক্ষেত্রগুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা উচিত, যাতে সমগ্র সমাজের উন্নতি নিশ্চিত হয়।
প্রাদেশিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নগর ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই সড়ক‑সেতুকে উন্নয়নের মূল চিহ্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস (CHT) ও উপকূলীয় অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে এই ধারণা যথাক্রমে ৭৯ শতাংশ ও ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি বেশি থাকা এলাকায় এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। বারিন্দ-নগর অঞ্চলে ৯০ শতাংশ ভোটারই উন্নয়নকে সড়ক‑সেতু ও কর্মসংস্থান সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। এই ফলাফলগুলো নির্দেশ করে যে, জলবায়ু সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামোকে উন্নয়নের প্রধান উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই জরিপের ফলাফল পার্টি ও প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটাররা যখন অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেন, তখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও নীতি পরিকল্পনায় এই দিকগুলোকে জোর দিয়ে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, পরিবেশ ও সামাজিক সূচককে উপেক্ষা করলে ভোটারদের দীর্ঘমেয়াদী আস্থা হারানোর ঝুঁকি থাকে।
সারসংক্ষেপে, CPD-এর সমীক্ষা প্রকাশ করে যে, বাংলাদেশে অধিকাংশ ভোটার এখনও উন্নয়নের চিত্রকে দৃশ্যমান অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান দিয়ে গড়ে তোলেন। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে নীতি গঠনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের মতো সূচকগুলোকে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন অর্জিত হয়।



