19.8 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধধামইরহাটে মোটরসাইকেল‑পিকআপের ধাক্কা, দুই চাচাতো ভাই নিহত

ধামইরহাটে মোটরসাইকেল‑পিকআপের ধাক্কা, দুই চাচাতো ভাই নিহত

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট গ্রামে শুক্রবার জুমা নামাজের পর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ফিরে আসার পথে একটি মোটরসাইকেল ও পিকআপ গাড়ির ধাক্কায় দুই চাচাতো ভাই প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন। রাফি চৌধুরী (১৭) এবং আতিক চৌধুরী (১৫) নামের এই দুই কিশোরের মৃত্যু স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষকে শোকাহত করেছে।

রাফি ও আতিক উভয়ই লোদিপুর, খেলনা ইউনিয়নের একই পাড়া থেকে আসেন; তারা হালিম চৌধুরী ও মান্নান চৌধুরীর সন্তান। পরিবার জানায়, রাফি সাপাহার সরকারি ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি ছিলেন, আর আতিক পত্নীতলা উপজেলায় মধইল আল‑ইনসাফ ইসলামী একাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

শুক্রবার বিকেলে জুমা নামাজ শেষ করার পর দুজন কিশোর বন্ধুদের সঙ্গে সাপাহার উপজেলায় ঘুরতে যান। সন্ধ্যার দিকে ঘুরে ফিরে বাড়ি ফেরার পথে সাপাহার গুদাম পার্শ্ববর্তী রাস্তায় পিকআপ গাড়ির সঙ্গে তাদের চালিত মোটরসাইকেল ধাক্কা খায়। ধাক্কা দুজনকে গুরুতরভাবে আঘাত করে, ফলে তারা দুজনই রক্তপাত ও শারীরিক আঘাতে অচেতন অবস্থায় পড়ে।

আহতদের তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাফি চৌধুরীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং উপস্থিত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আতিকের ক্ষেত্রে শারীরিক ক্ষতি তীব্র হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়, তবে রওনা পথে তার প্রাণও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মৃতদেহের শেষিকরণ শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক করবস্থানে সম্পন্ন হয়। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে দুজনের দাফন করা হয়, যা স্থানীয় সমাজে শোকের পরিবেশ তৈরি করে।

ঘটনার পর খেলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহিল মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুজন কিশোরের সঙ্গে বন্ধুরা একসাথে গিয়েছিল এবং ফিরে আসার পথে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকের পরিচয়, গতি, রাস্তায় চলমান ট্রাফিকের অবস্থা এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের জন্য গাড়ির রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, পিকআপ গাড়ির চালক ও রাফি-আতিকের চালকের মধ্যে গতি পার্থক্যই প্রধান কারণ হতে পারে।

পুলিশের মতে, দুর্ঘটনা সম্পর্কিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজনীয় হলে গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে রোড সেফটি আইন অনুযায়ী অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে। একই সঙ্গে, আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, রাফি চৌধুরীর মৃত্যু দ্রুত ঘটার ফলে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা দেখা দেয়। আতিকের ক্ষেত্রে, রক্তচাপের হঠাৎ পতন ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণে রওনা পথে তার প্রাণ হারায়। উভয় ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা সেবা না পৌঁছানোর ফলে ফলাফল বদলে যেতো কি না, তা এখনো তদন্তের বিষয়।

স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনা ঘটার পর রাস্তায় অস্থায়ী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং রাস্তায় গতি সীমা কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রোড সেফটি সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ রোড ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন। স্থানীয় সমাজে এই ধরনের ট্র্যাজেডি পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনগত ব্যবস্থা কঠোর করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments