লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরা পিটার ম্যান্ডেলসনের আচরণে শক ও রাগ প্রকাশ করছেন, একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কীর স্টারমারের নেতৃত্বের ওপরও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, স্টারমার ছয় সপ্তাহ আগে একটি সাক্ষাৎকারে ২০২৭ সালের মধ্যে পার্লামেন্টের চেয়ার দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে এখন তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পার্টির ভিতরে সন্দেহের স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।
স্টারমারকে সরাসরি দায়ী না করে ম্যান্ডেলসনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নের মুখে আনা হয়েছে, তবে ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত ইমেইল স্ক্যান্ডালগুলো পার্টির অভ্যন্তরে তার সিদ্ধান্তের ভুলতা বাড়িয়ে তুলেছে। লেবার পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ম্যান্ডেলসনের উপর আক্রমণাত্মক রায় প্রকাশ করে, তবে একই সঙ্গে স্টারমারের নেতৃত্বের ওপরও সমালোচনা বাড়ছে।
এই রাগের মূল কারণ কেবল ম্যান্ডেলসনের ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়; এটি পার্টির দীর্ঘমেয়াদী অসন্তোষের একটি প্রকাশ। গত কয়েক মাসে সরকারী নীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সঞ্চিত অশান্তি এখন ম্যান্ডেলসনের ঘটনার মাধ্যমে তীব্রতর হয়েছে। পার্লামেন্টের বিভিন্ন কোণ থেকে শোনা যাচ্ছে, স্টারমারকে শীঘ্রই পদত্যাগ করতে হতে পারে, অথবা তার ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
একজন প্রভাবশালী পার্টি সদস্যের মতে, পূর্বে তিনি স্টারমারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আর কোনো বিকল্প না থাকায় তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্টারমারের কর্তৃত্ব এখন আর টিকে থাকতে পারে না। অন্যদিকে, পার্টির মধ্যে এখনও কিছু সদস্য আছেন, যারা নীরব থেকে পরিস্থিতি সামলাতে চায় এবং আশা করে যে সরকারী অস্থিরতা শেষ হবে।
একজন বিশ্বস্ত মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, বর্তমান সময়ে কেউই বিশ্বাস করে না যে স্টারমার ২০২৭ সালে এখনও প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি যুক্তি দেন, যদি স্টারমার না হ্রাস পান, তবে যুক্তরাজ্য একটি অস্থির অবস্থায় আটকে থাকবে, যা ফুটবলের ক্লাবের ম্যানেজার পরিবর্তনের মতো অনির্ভরযোগ্যতা সৃষ্টি করবে। অন্য একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এখন অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে স্টারমারকে পদত্যাগ করতে হবে, এবং এই ধারণা পার্টির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকারের অভ্যন্তরে ম্যান্ডেলসনের আচরণ নিয়ে তীব্র বিরক্তি দেখা দিচ্ছে, তবে এই বিরক্তি কেবল একক ঘটনার ফল নয়; এটি সাম্প্রতিক দিনগুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি প্রতিফলন। ম্যান্ডেলসনের ইমেইল স্ক্যান্ডাল এবং তার সঙ্গে যুক্ত নৈতিক প্রশ্নগুলো পার্টির অভ্যন্তরে গভীরভাবে প্রোথিত অসন্তোষকে উন্মোচিত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখন অনিশ্চিত। স্টারমারের নেতৃত্বে পার্টি কি পুনর্গঠন করতে পারবে, নাকি নতুন নেতৃত্বের সন্ধান নিতে হবে, তা এখনই মূল প্রশ্ন। পার্লামেন্টের ভেতরে এবং বাহিরে উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে, এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে পার্টির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পিটার ম্যান্ডেলসনের ব্যক্তিগত দুর্নীতির ফলে লেবার পার্টির এমপি-দের মধ্যে শক ও রাগের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে, এবং একই সঙ্গে স্টারমারের নেতৃত্বের ওপরও ব্যাপক সমালোচনা বাড়ছে। এই দ্বৈত সংকট পার্টির অভ্যন্তরে দীর্ঘমেয়াদী অসন্তোষের প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।



