19.8 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুষ্টিয়া কারাগারে মাদক মামলার হাজতি বিদ্যুৎ আলীর আত্মহত্যা, মরদেহ মর্গে পাঠানো

কুষ্টিয়া কারাগারে মাদক মামলার হাজতি বিদ্যুৎ আলীর আত্মহত্যা, মরদেহ মর্গে পাঠানো

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ২৭ বছর বয়সী মাদক মামলার আসামি বিদ্যুৎ আলীর মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার ভোরে, কারাগারের হাসপাতালের বাথরুমে তিনি নিজের গামছা ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আত্মহত্যা ঘটার সময় তিনি একা ছিলেন এবং কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ আলী কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিরমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রাম চাঁদ্দু আলীর পুত্র। তিনি মাদক-সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং দুই মাস আগে একই কারাগারে ভর্তি হন। জেল সুপারিশার শরিফুল আলমের বিবরণে, আলীকে মানসিক সমস্যার কারণে কারাগারের হাসপাতালের বিশেষ শয্যায় রাখা হয়েছিল।

হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, বিদ্যুৎ আলীকে মানসিক অস্থিরতার লক্ষণ দেখা গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছিল। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায়, তাকে কারাগারের ভিতরে সীমিত পরিবেশে রাখা হয়েছিল। আত্মহত্যার সময়, তিনি বাথরুমের জানালার গ্রিলে গামছা গলায় পেঁচিয়ে নিজেকে শেষ করে দেন। এই পদ্ধতি পূর্বে কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না থাকায়, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তা নিশ্চিত করেছে।

কারাগার কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শরিফুল আলম জানান, আত্মহত্যা ঘটার পরই কর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেন। মর্গে পৌঁছানোর পর, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো হয়। মৃতদেহের হস্তান্তর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. হোসেন ইমামও ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, মৃতদেহ হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ আলীর মৃত্যু নিশ্চিত হয় এবং বর্তমানে তার দেহ মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। ডা. ইমাম উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে না।

আইনি দিক থেকে, আত্মহত্যা ঘটার পর সংশ্লিষ্ট তদন্ত বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে সব প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। প্রমাণের মধ্যে বাথরুমের গ্রিলের ছবি, গামছার অবশিষ্টাংশ এবং আত্মহত্যার সময়ের সিসিটিভি রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত। এই প্রমাণগুলোকে ভিত্তি করে, স্থানীয় পুলিশ এবং জেল প্রশাসন যৌথভাবে একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করবে।

মৃতদেহের হস্তান্তর এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল জানার পর, পরিবারকে আইনি নথিপত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে, কারাগারের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বন্দীদের জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ঘটনাটি কুষ্টিয়া জেলার কারাগার ব্যবস্থাপনা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আত্মহত্যা ঘটার পর দ্রুত তদন্ত এবং স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যাতে জনসাধারণের আশঙ্কা দূর হয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments