25.4 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যচাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দুই মাথা যুক্ত নবজাতকের জন্ম ও চিকিৎসা চ্যালেঞ্জ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দুই মাথা যুক্ত নবজাতকের জন্ম ও চিকিৎসা চ্যালেঞ্জ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গৃহবধূ এক সন্তানকে প্রসব করেন। শিশুটি দু’টি মাথা, চারটি চোখ, চারটি কান, দুইটি নাক ও দুইটি মুখসহ একটিমাত্র দেহে জন্ম নেয়। পরিবার জানায়, মা‑সন্তান দুজনই বর্তমানে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

শিশুটিকে ডাক্তাররা ‘ডাইসেফালিক পারাপাগাস’ (দুই মাথা যুক্ত যমজ) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ধরনের জন্মগত ত্রুটি অত্যন্ত বিরল এবং শিশুর শারীরিক গঠন একাধিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। শিশুর দেহ ও যৌনাঙ্গ একক হলেও দুইটি স্বতন্ত্র মস্তিষ্ক রয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে আলাদা শারীরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশু সার্জন উল্লেখ করেন, দুই মাথা যুক্ত শিশুর বেঁচে থাকা ও স্বাস্থ্যের জন্য যত দ্রুত সম্ভব শারীরিকভাবে আলাদা করা প্রয়োজন। তবে আলাদা করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল। বর্তমান পর্যায়ে শিশুর জীবন রক্ষার জন্য তীব্র পর্যবেক্ষণ ও সমর্থনমূলক চিকিৎসা চালু রয়েছে।

বাবা মাসুদ গাজী, যিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন, জানান যে শিশুর শল্যচিকিৎসা সম্পন্ন করতে বিশাল আর্থিক সহায়তা দরকার। তিনি সমাজের ধনী ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে দান ও প্রার্থনা কামনা করছেন। সামাজিক সেবা কর্মকর্তাও পরিবারকে সীমিত পরিমাণে সহায়তা প্রদান করার কথা জানিয়েছেন, তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সহায়তা চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় পূরণে যথেষ্ট নয়।

ডাইসেফালিক পারাপাগাসের চিকিৎসা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গবেষণা দেখায়, সফল আলাদা করার হার নির্ভর করে জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে হস্তক্ষেপের উপর। শল্যচিকিৎসা না করা হলে শ্বাস‑প্রশ্বাস, পুষ্টি গ্রহণ এবং স্নায়বিক বিকাশে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত সঠিক মেডিকেল সাপোর্ট ও আর্থিক তহবিল সংগ্রহ করা জরুরি।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, শিশুর বর্তমান পর্যবেক্ষণ ও সমর্থনমূলক থেরাপি তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াবে। পাশাপাশি, তারা স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে দাতব্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন।

এই অনন্য কেসটি চিকিৎসা বিজ্ঞান ও নৈতিক দিক থেকে বহু প্রশ্ন উত্থাপন করে। সমাজের সমবেত প্রচেষ্টা ও সরকারি সহায়তা একসঙ্গে কাজ করলে শিশুর ভবিষ্যৎ রূপান্তরিত হতে পারে।

আপনারা যদি এই শিশুর চিকিৎসা সহায়তায় অবদান রাখতে চান, নিকটস্থ দাতব্য সংস্থা বা হাসপাতালের তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের কথা বিবেচনা করুন।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments