ধাক্কা-ধাক্কি প্রচার আজ দুপুর ১২টায় গুলশানের পুলিশ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মোড়ে বিস্তৃত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কন্যা যাইমা রহমান ভোটারদের সমবেত করে তার পিতার ‘শস্যের গাঁথা’ প্রতীকের অধীনে ভোটের অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রচার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাইমা রহমানের সঙ্গে ছিলেন ফাতেমা বেগম, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারী। দুজনেই গুলশানের পুলিশ প্লাজা থেকে রওনা হয়ে ধীরে ধীরে গলিপথ, দোকান ও রেস্টুরেন্টে থেমে ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে গেছেন।
যাইমা তার স্বয়ং পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, “আমি যাইমা রহমান, তারেক রহমানের কন্যা। আমার পিতা ঢাকা-১৭-এ ‘শস্যের গাঁথা’ প্রতীকের অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বী। আমি আপনারা সবাইকে তার পক্ষে ভোট দিতে অনুরোধ করছি।” এই বক্তব্যের পরে তিনি উপস্থিত লোকজনকে হাতে হাতে ভোটের পিটিশন তুলে দিলেন।
প্রচারের সময় তিনি বিভিন্ন বাজারের দোকান, ক্যাফে ও রাস্তার কোণায় থেমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন। প্রত্যেকের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জাতীয় নীতির কথা তুলে ধরেন এবং ভোটের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
যাইমা প্রচার দল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রচারপত্র বিতরণ করে তার পিতার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচি তুলে ধরেছেন। বিতরণকৃত পত্রে ‘শস্যের গাঁথা’ প্রতীকের ছবি ও তারেক রহমানের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পথে চলা ভোটারদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি তাদের সমর্থন চেয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নিতে চেষ্টা করেন। কিছু ভোটার তারেক রহমানের কর্মক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেন, আবার অন্যরা ভোটের সময় সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ঢাকা-১৭-এ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও তাদের প্রার্থী ও কর্মসূচি উপস্থাপন করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এই সময়ে নিজেদের প্রচারসূচি বাড়িয়ে তুলেছে, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
একই সময়ে, বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, যিনি জিয়াুর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, মোহাখালীতে ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য বই বিতরণ করেন। এই উদ্যোগটি স্থানীয় শিশুরা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে লক্ষ্য করে চালু করা হয়েছে।
প্রোগ্রামটি করাইলের টি অ্যান্ড টি উইমেনস কলেজের প্রাঙ্গণে দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। জুবাইদা রহমান স্লাম এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের সঙ্গে বসে তাদের জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষা হল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি, তাই আপনাদের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে।” এই বক্তব্যের পর তিনি উপস্থিত শিশুদেরকে উৎসাহজনক শব্দ দিয়ে বিদায় জানান।
জুবাইদা রহমান পূর্বে ভাসান্তেকের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়ি গিয়ে খাবার সামগ্রী বিতরণ করেন। এই সহায়তা কর্মসূচি দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারকে সাময়িকভাবে সান্ত্বনা প্রদান করেছে।
বিতরণ শেষে তিনি স্থানীয় একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে গিয়ে রোগীদের মৌলিক চিকিৎসা পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেন। ক্যাম্পে উপস্থিত রোগীরা তারেক রহমানের পরিবার দ্বারা চালু করা এই স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রচারমূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-১৭-এ ভোটারদের মনোভাব গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ভোটের প্রবাহ কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে দু’পক্ষের প্রচারমূলক কার্যক্রমের তীব্রতা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।



