শনিবার সন্ধ্যায় কলম্বোর সিংহলেস স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান ৩ উইকেটের পার্থক্যে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে গ্রুপে অগ্রগতি নিশ্চিত করে। শূন্যে ১১ বলের মধ্যে ২৯ রান তোলার পর ফাহিম আশরাফ শেষ দুই ওভারে অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে দলকে জয় এনে দিল। শেষ ওভারের ১৯তম বলেই তিনি তিনটি ছয়ের সঙ্গে ২৪ রান যোগ করে তিন বল বাকি রেখে লক্ষ্য পূরণ করেন।
পাকিস্তান শুরুর ছয় ওভারে ৬১ রান দুই উইকেটের সঙ্গে গতি পায়, যা শক্তিশালী পাওয়ারপ্লে সূচনার ইঙ্গিত দেয়। তবে মাঝখানে শিহাবজাদা ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রান করে দলকে স্থিতিশীল রাখলেও, তার দ্রুত পতন নেদারল্যান্ডসকে ফিরে আনার সুযোগ দেয়। ডান‑হ্যান্ড বোলার পল ভ্যান মিকেরেনের ডাবল‑উইকেট মেইডেন পরপর দুই উইকেট নেয়, ফলে পাকিস্তানের স্কোর দ্রুত হ্রাস পায়।
বাবর আজমের পরের ওভারে আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান তিন উইকেটের মধ্যে মাত্র দুই রান হারায়, দশটি ডেলিভারিতে তিনটি উইকেট নেমে আসে। এই মুহূর্তে স্কোর ১০২-৪, এবং শেষ দুই ওভারে ২৯ রান দরকার তিন উইকেটের সঙ্গে, যা ম্যাচকে নাটকীয় মোড়ে নিয়ে আসে। ফাহিম আশরাফের আক্রমণাত্মক স্বভাব এবং শাহীন আফরিদির স্থিতিশীলতা ৩৪ রান অক্ষত পার্টনারশিপ গড়ে তোলে, যা আট নম্বর উইকেট পর্যন্ত দলকে টিকে রাখে।
নেদারল্যান্ডসের শুরুর আক্রমণেও কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত দেখা যায়। প্রায় ২০০টি ভ্রমণকারী ভক্তের উল্লাসে তারা ১২৭-৪ স্কোরে চার ওভার বাকি অবস্থায় পৌঁছায়, যা জয় নিশ্চিত করার আশায় ভরপুর ছিল। তবে পাকিস্তানের ধীর গতি এবং শটের সঠিক নির্বাচন নেদারল্যান্ডসের রুন রেট কমিয়ে দেয়। ক্যাপ্টেন স্কট এডওয়ার্ডস ২৯ বলে ৩৭ রান করে দলের শীর্ষ স্কোরার হন, কিন্তু লেগ‑স্পিনার অবরার আহমেদের বিরুদ্ধে উচ্চগতির শটের ফলে তিনি আউট হন।
অপরদিকে পার্ট‑টাইম স্পিনার সাইম আয়ুব ১৭তম ওভারে দু’বার ব্যাটসম্যানকে আউট করে, এবং বামহাতের দ্রুত বোলার সালমান মির্জা শেষ ওভারে তিন উইকেট নেয়, যার ফলে নেদারল্যান্ডসের শেষ ব্যাটসম্যান এক বল বাকি অবস্থায় আউট হন। শেষ চার ওভারে পাকিস্তান মাত্র ২০ রানই concede করে, এবং মাঠে ধারালো ক্যাচের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেয়।
এই জয় পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দলটি গ্রুপ পর্যায়ে কোনো পরাজয় সহ্য করতে পারে না। পূর্বে ভারতবিরোধী ম্যাচে সরকারী ফরফেয়ার্ডের ফলে পয়েন্ট হারিয়েছিল, ফলে এখন গ্রুপে শীর্ষে থাকার জন্য জয় অপরিহার্য। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধারক পাকিস্তান এই জয়কে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চারক হিসেবে ব্যবহার করবে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তানকে একই গ্রুপের আরেকটি দলকে মুখোমুখি হতে হবে, যা দলকে শীর্ষে রাখতে অতিরিক্ত জয় দরকার। নেদারল্যান্ডসের জন্যও এই পরাজয় বড় ধাক্কা, তবে তারা এখনও গ্রুপে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। উভয় দলই এখন থেকে প্রতিটি রান এবং উইকেটের গুরুত্ব বুঝে খেলতে হবে।
ক্লাবের মাঠে উল্লসিত ভক্তদের চিৎকার, তীব্র শট এবং দ্রুত বোলিংয়ের মিশ্রণে শ্রীলঙ্কার এই আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উভয় দলের পারফরম্যান্স এবং ফিল্ডিংয়ের মান ভবিষ্যৎ ম্যাচের গুণগত মানের ইঙ্গিত দেবে, এবং টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় রাখবে।



